অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের আশা ফিকে হয়ে আসা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
৪ আগস্ট মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্সের।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ৩টা ৫৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম ১ দশমিক ১২ ডলার বা ১.৩ শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছায়। আগের সেশনে এই ক্রুডের দাম ৭ শতাংশ কমে গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছিল।
অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৭৭ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ৮১ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের কার্যদিবসে ৫ শতাংশের বেশি কমেছিল।
গত ২ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চলায় তিনি আপাতত ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালানো থেকে বিরত আছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের দর পতন হয়েছিল।
তবে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। ভবিষ্যতে কোনো বৈঠকও নির্ধারিত নেই।
ইরানের এই স্পষ্টীকরণের পরেই বাজারে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএনজির বিশ্লেষকেরা জানান, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।
স্ট্রেইট অব হরমুজ বা হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত জটিলতাই বর্তমানে মূল সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ইরানকে এই জলপথ খুলে দিতে হবে। তবে তেহরানের দাবি, চুক্তিতে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ কর্তৃত্ব স্পষ্টভাবে বজায় রাখা হয়েছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিপিং নজরদারি সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, ওমানের আল খাসাব থেকে ২০ সামুদ্রিক মাইল উত্তর-পূর্বে একটি মালবাহী জাহাজে অজানা প্রক্ষেপক (প্রজেক্টাইল) দিয়ে আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া লোহিত সাগরে সৌদি পতাকাবাহী বেশ কয়েকটি ট্যাংকার বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং পরিবহণে সময় ও বীমা খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেসিএম ট্র্যাডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, হরমুজ প্রণালি ও বাব এল-মানদেবে চলমান উত্তেজনার ফলে বাজারে দ্বৈত ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈশ্বিক তেলের বাজারের ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কমতে দিচ্ছে না।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available