নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় এক কৃষকের বাড়িতে আগুন লেগে ৪টি ঘর ভস্মীভূত হয়েছে। এতে কৃষক আব্দুল হাই (৬৫) এর প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই পরিবারের ৮ সদস্য খোলা আকাশের নিচে জীবন যাপন করছে।

৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা থেকে দুই প্যাকেট শুকনা খাবার ও ৭টি কম্বল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।


এর আগে ৭ জানুয়ারি বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের ভুতগাড়ী গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল হাই বলেন, টিন শেডের বাড়িতে ৪টি কক্ষ। যেখানে দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও নাতনীসহ ৮ সদস্য নিয়ে বসবাস করতাম। বুধবার সকাল ৭টার দিকে খাবার খেয়ে যে যার মতো কাজে বেরিয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে প্রতিবেশীরা ফোন করে জানায় বাড়িতে আগুন লেগেছে। তড়িঘড়ি করে এসে দেখি সবকিছু পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার বাড়ি থেকে আড়াই লাখ টাকন দুইটি গরু বিক্রি করে টাকা বাড়িতে রাখা ছিল। বাড়ির আসবাবপত্র, লেপ তোশক, জামা কাপড়, ড্রামে থাকা ৯০ কেজি চাল, ৫ বস্তা গরুর খাবার ও ৩ বস্তা সারসহ গরু বিক্রির নগদ টাকা সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল হাইয়ের বড় ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন- খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হচ্ছে। পরনে যে পোশাক ছিলো তা ছাড়া অবশিষ্ট আর কিছু নেই। প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবার খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা থেকে শুকনা খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়েছে যা আমাদের জন্য যথেষ্ট না। সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি।
প্রতিবেশী আনিসুর রহমান বলেন, আগুন লাগার সময় তাদের বাড়িতে কেউ ছিলো না। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিলো। আমরা প্রতিবেশীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলাম। প্রায় আধাঘণ্টার আগুনে সবকিছু পড়ে শেষ হয়ে গেছে। পরিবারটা নিঃস্ব হয়ে গেছে। তবে চুলার আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
নওগাঁ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে শুকনো খাবার ও কম্বল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। আগামী রোববার ১২ হাজার টাকা ও ৬ বান্ডিল টিন দিয়ে সহযোগিতা করা হয়।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available