কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার কেরানীগঞ্জে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কাঁটার মহোৎসব চলছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হলেও কোনো অবস্থাতেই মাটি চুরি থামানো যাচ্ছে না।

এই মাটি চুরির সাথে বিভিন্ন ইটভাটার মালিকপক্ষ জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি মাটি চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এআরবি ব্রিকস এর মালিক রায়হান মিয়াকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ প্রদান করে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে।


অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, রায়হান মিয়ার বিরুদ্ধে মাটি কেটে ইট ভাটায় ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এটা ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ১৩ ধারা মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অতএব আগামী ২৬শে জানুয়ারি সকাল দশটায় সশরীরে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণ করার জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হলো। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কে এই রায়হান?
মোহাম্মদ রায়হান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন তেঘরিয়া ইউনিয়নের বাঘৈর গ্রামের মৃত জজ মিয়ার ছেলে। তার বাবা তেঘরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। বিগত জোট সরকারের আমলে রায়হান মিয়া ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীন আহমেদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ নিয়ে ছাত্র আন্দোলন তার ব্যাপক ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ পট পরিবর্তনের পর রাজেন্দ্রপুর এলাকার এক ছাত্রনেতার সহযোগিতায় সে বিপুল অর্থ ব্যয় করে তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যপদ লাভ করেন। সদস্যপদ নেয়ার জন্য বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতাকে তিনি দামি একটি গাড়ি উপহার দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানা গেছে তেঘরিয়া এলাকায় কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন ছাড়া রায়হানদের পারিবারিকভাবে বেশ কয়েকটি ইটভাটা রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে এবং বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চোরাই মাটি দিয়েই তাদের মালিকানাধীন সমস্ত ইটভাটা পরিচালনা করছে। সরজমিনে এআরবি ব্রিকসসহ বেশ কয়েকটি ইটভাটা পরিদর্শন করে মাটিকাটা সত্যতা পাওয়া গেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে রায়হানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক জানান, ফসলি জমির মাটি চুরি রোধে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েকজন ইটভাটার মালিককে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটা বন্ধে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available