• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ২৯শে শ্রাবণ ১৪৩৩ দুপুর ১২:০৫:৩০ (13-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

‘আম্মাজান’ মুক্তির আগেই বস্তায় ভরে টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন ডিপজল

১৩ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০:২৮:৫৮

‘আম্মাজান’ মুক্তির আগেই বস্তায় ভরে টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন ডিপজল

বিনোদন ডেস্ক: মান্না অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমা ‘আম্মাজান’ মুক্তির আগেই প্রযোজক ডিপজল ১ কোটি ৪ লাখ টাকা তুলে নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক কাজী হায়াৎ। সিনেমাটি নির্মাণে মোট খরচ হয়েছিল ১ কোটি ২ লাখ টাকা। অর্থাৎ মুক্তির আগেই সিনেমাটি থেকে ২ লাখ টাকা লাভ হয়েছিল।

সম্প্রতি নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ‘আম্মাজান’ নির্মাণের নানা অজানা ঘটনা তুলে ধরেন কাজী হায়াৎ।

১৯৯৯ সালের ২৫ জুন মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি প্রসঙ্গে কাজী হায়াৎ বলেন, ‘আম্মাজান’ ছিল তার জীবনের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি। তিনি জানান, শুক্রবার সিনেমাটি মুক্তির কথা ছিল। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যে সিনেমার সব প্রিন্ট বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর হিসাব করে দেখা যায়, সিনেমাটি থেকে ২ লাখ টাকা লাভ হয়েছে।

কাজী হায়াতের ভাষায়, সিনেমাটি নির্মাণে ১ কোটি ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। মুক্তির আগেই ১ কোটি ৪ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়। ডিপজল বস্তায় করে সেই টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। তার মতে, এটি ছিল চলচ্চিত্রের একটি রেকর্ড।

কাজী হায়াৎ জানান, ‘আম্মাজান’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয়ের কথা ছিল কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবানার। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ‘মান্নার মা’ চরিত্রে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সিনেমাটিতে ‘আম্মাজান’ চরিত্রে অভিনয় করেন শবনম।

সিনেমাটিকে ঘিরে আরেকটি ঘটনা ছিল মান্নাকে নায়ক হিসেবে নেওয়া। কাজী হায়াৎ জানান, শুরুতে ডিপজল মান্নাকে সিনেমার নায়ক হিসেবে নিতে চাননি। কারণ সে সময় দুজনের মধ্যে বিরোধ ছিল।

তবে মান্নার স্বভাব ছিল, ভালো গল্পের কথা শুনলে তিনি নিজে থেকেই ডিপজলের কাছে চলে যেতেন। ‘আম্মাজান’-এর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। পরে পরিচালক কাজী হায়াতের অনুরোধে মান্নাকে নায়ক হিসেবে নিতে রাজি হন ডিপজল।

‘আম্মাজান’-এর শুটিং শুরু হওয়ার পরও মান্না ও ডিপজলের মধ্যে আরেক দফা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সিনেমার শুটিংয়ের জন্য এমন একটি ভবন নির্বাচন করা হয়েছিল, যা শুটিং শেষ হওয়ার পর ভেঙে ফেলার কথা ছিল। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই ভবনের প্রয়োজনীয় অংশের শুটিং শেষ করার তাড়া ছিল।

কাজী হায়াৎ জানান, একদিন ডিপজল মান্নাকে আরও দুই ঘণ্টা শুটিং করার অনুরোধ করেন, যাতে ভবনটির প্রয়োজনীয় অংশের দৃশ্য ধারণ শেষ করা যায়। কিন্তু মান্না ওই অতিরিক্ত সময় দিতে রাজি হননি।

এ ঘটনার বিস্তারিত জানা যায় ডিপজলের পুরোনো এক সাক্ষাৎকার থেকে। সেখানে তিনি বলেন, মান্নার সঙ্গে এর আগে তারা একসঙ্গে সারা রাত বহুবার শুটিং করেছেন। কিন্তু সেদিন মান্না অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা সময় না দিয়ে শুটিং ছেড়ে চলে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ডিপজল শুটিং বন্ধ করে দেন।

ডিপজল ওই সাক্ষাৎকারে জানান, প্রায় দুই মাস পর মান্না দুঃখ প্রকাশ করে আবার কাজ শুরু করতে চান। তখন তিনি মান্নাকে বলেছিলেন, সিনেমার নেগেটিভ পুড়িয়ে ফেলতে বলেছেন এবং এই সিনেমা আর হবে না।

তবে পরে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে মান্না ও ডিপজলের মধ্যে সমঝোতা হয় এবং আবার শুটিং শুরু হয়। ডিপজলের ভাষ্য অনুযায়ী, মান্না বুঝতে পেরেছিলেন সিনেমাটি দর্শক গ্রহণ করবেন। কারণ তিনি গল্প বুঝতেন।

মুক্তির পর ‘আম্মাজান’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এটি একটি আলোচিত ও ব্যবসাসফল সিনেমা হিসেবে জায়গা করে নেয়।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ