নিজস্ব প্রতিবেদক: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্যধারা সাহিত্য সংসদ আয়োজিত ৪৩৩তম আড্ডায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় ফার্মগেট অন্যধারা সাহিত্য সংসদের নিজ কার্যালয়ে ওই দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদান স্মরণ করে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মুনাজাত করেন কবি মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন। উক্ত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত কবিগণ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন।
কবি ও দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের সম্পাদক সৈয়দ রনোর উপস্থাপনা ও কবি শাহীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আবু সালেহ। উদ্ধোদক ছিলেন জাসাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব রফিকুল ইসলাম, প্রধান আলোচক ছিলেন ড. শহিদ আজাদ।
প্রধান অতিথি বীরমুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আবু সালেহ বলেন, বিগত ১৫ বছরের কথা আপনারা জানেন যে তারা জুলাই যোদ্ধাদের কাছে বাতিল হয়ে গেছে। কিন্তু এর কোনো গবেষণা হলো না। এর কোনো মূল্যায়ন হলো না। সে কারণে আমাদের ভাববার বিষয় হলো আমরা যে শিল্প-সাহিত্যের সাথে সম্পৃক্ত আমাদের শিল্পের সে ধরনটা কেমন হবে। সাহিত্যের ভাষাটা কেমন হবে। একে অপরের সাথে যে সম্বোধন করি সে সম্বোধনের ভাষাটা কি হবে। এটা কিন্তু কেউ নির্ণয় করে দেয়নি!
তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়ার স্মৃতিচারণ উল্লেখ করে আমি বলতে চাই খালেদা জিয়া একজন মহিয়সী নারী ছিলেন। তিনবারের রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। কীভাবে তিনি তিনবার রাষ্ট্রনায়ক হয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন, কীভাবে জনগণের সাথে মিশেছেন সেটা আপনার জানেন। আমি উনার সাথে কোথাও গেলে উনি আমাকে খোঁজ করে ডাকতেন। পাশে বসাতেন। আমি দীর্ঘ সময় তার সাথে কাজ করেছি। তাকে জেনেছি, বুঝেছি। তিনি আসলেই একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবীদ ছিলেন। তার আদর্শ ফলো করে নিজের জীবন গঠন করেছি। আমি আজ তার জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করি। আল্লাহ যেন উনাকে জান্নাতে উচ্চ মাকাম দান করেন।
প্রধান আলোচক ছিলেন ড. শহিদ আজাদ বেগম জিয়ার সাথে দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আমাদেরকে যেভাবে গাইডলাইন করেছেন সেকারণেই আমরা এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পেরেছিলাম। ম্যাডামের জীবনে যতগুলো ভালো কাজ করেছেন তার মধ্যে আমার কাছে শ্রেষ্ঠ কাজ মনে হয়েছে মধ্যবর্তী নির্বাচন ও তত্বাবধায়ক সরকার গঠন। কারণ উনি বুঝেছিলেন দেশকে যদি গণতন্ত্রের মধ্যে রাখতে হয় তাহলে অবশ্যই দলীয় প্রশাসকের অধীনে নির্বাচন কখনোই সুষ্ঠু হতে পারে না।
তিনি বলেন, এতে এটাই প্রমাণিত হয় যে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার ক্ষমতার কোনো লোভ ছিল না। যদি থাকতো তাহলে তিনি শেখ হাসিনার মতো ক্ষমতা ছাড়তেন না। কারণ শেখ হাসিনা বলেছিলেন- আমি তিন মাস পরে নির্বাচন দেব। বিরোধী দলকে চিফ হুইফ দেবেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেবো কিন্তু কিছুই দেননি। কাজেই কথা দিয়ে কথা রাখার লোক হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া।
শেখ হাসিনা ইতিহাসে এক বিরল স্বৈরাচারি উল্লেখ করে জাসাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব রফিকুল ইসলাম বলেন, একজন সৎ, আদর্শ নেতা ছিলেন জিয়াউর রহমান। তার মৃত্যুর পর ব্যাংক একাউন্টে পাঁচশত টাকাও গচ্ছিত ছিলনা পরিবারের জন্য। তখন সরকার তাকে দুটি বাড়ি দিয়েছিল ক্যান্টেনমেন্ট ও গুলশানে। গুলশানে দিয়েছে বাড়ি ভাড়া দেয়ার জন্য, যাতে খালেদা জিয়া সৎভাবে জীবন যাপন করতে পারে। কিন্তু স্বৈরাচার শেখ হাসিনা তাকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে নির্মমভাবে, নৃশংসভাবে বের করে দেয়। এটা ইতিহাসে স্বৈরাচার মুসলিনি, হিটলারকেও সে হার মানিয়েছে।
কবি শাহীন রেজা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই। তিনি যেখানেই আছেন, যেভাবেই আছেন আমাদের ভালোবাসার বৃষ্টি তাকে সিক্ত করছে। আমাদের হৃদয় তার জন্য কাঁদছে এবং কান্নার শুরু হয়েছে শেষ কবে হবে আমাদের জানা নেই। হয়তো কোনো দিনই হবে না। এই বাংলাদেশ যতদিন থাকবে বেগম খালেদা জিয়ার নাম ততদিন থাকবে। আপনারা জানেন সত্যের পক্ষে বিএনপি ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে তাকে লাঞ্চিত করেছে, অন্ধকার প্রকোষ্টে আটকে রেখে দিনের পর দিন নির্যাতন করেছে। এবং সত্য মিথ্যা জানিনা আল্লাহই ভালো জানেন- শুনেছি তাকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছে। এইভাবে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।
ড. কবি মুহম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, ম্যাডাম যখন প্রথম ক্ষমতায় আসেন তখন আমি উপবৃত্তি নিয়ে উনার সাথে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় অনেকেই তার পড়াশোনা নিয়ে কথা বলেন, কাজী নজরুল ইসমামের কোনো পড়া শোনা ছিল না। মাওলানা আজাদ ভারতের সর্বোচ্চ নেতা এবং কংগ্রেসের সদস্য তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা ছিল না। নেলস্যান মেন্ডেলা, হো চি মিন এভাবে বিশ্বে আরও অনেক নেতা পাওয়া যাবে। তাহলে খালেদা জিয়ার বিষয়ে কেন এ প্রশ্ন। আসল উদ্দেশ্য তাকে হেয় করা।
তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কারণে আমরা তাকে ভুলিনি। যদি ভুলে যেতাম তাহলে তার জানাজায় এক কোটি লোক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতো না।
কবি ও দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের সম্পাদক সৈয়দ রনো বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক অভিভাবক। একজন সাংবাদিক হিসেবে তথ্যের ভিত্তিতে আমি বলতে পারি দলমত নির্বিশেষে তাঁর নামাজে জানাজায় ৭০ লাখ মানুষ ছাড়িয়ে গেছে। মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে জানাজার কাতার শাহবাগ পর্যন্ত গিয়েছে। মৃত্যুতে শেখ হাসিনা ও তার ছেলে জয় পর্যন্ত শোক প্রকাশ করেছে। ভারত ও বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে বিশ্ব নেতারা শোক প্রকাশ করেছে। কাজেই তিনি আজ জাতির ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাড়িয়েছেন। তাই আমরা আজ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।
কবি আশরাক মির্জা বলেন, ইতিহাস প্রতিদিন সৃষ্টি হয়না, এতে মাস লাগে, বছর লাগে। কিন্তু অন্যধারা আজ খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিল করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ ও তাকে নিবেদিত কবিতা পাঠ করেন কবি মোজাফফার বাবু, কল্যাণ চক্রবর্তী, কবি মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, কবি মোহাম্মদ শামীম মিয়া, কবি হাসান কামরুল, কবি রি হোসাইন, কবি আশরাফ মির্জা, কবি বীথি কবির, কবি মো. শরীফুল ইসলাম, কবি সরকার হুমায়ুন, কবি সনাতন মিত্র, কবি মেজবাহ মুকুল, কবি মো. কায়ছার আলী, কবি রুনা লায়লা, কবি নাসিমা আক্তার নিঝুম, কবি শেখ মেহেদী পারভেজ, কবি মো. ইকবাল হোসেন, কবি মুর্শিদ-উল-আলম, কবি সাইফ সাদী, কবি শিহাব, কবি মাহফুজা আক্তার ও কবি এস.এ আলিম।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available