নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: কর্মস্থলে নেই, অথচ হাজিরা খাতায় ঠিকই স্বাক্ষর! ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিসে এমন অনিয়ম ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ করা হয়েছে।
৩১ আগস্ট সোমবার সকালে নগরীর খানপুর এলাকায় ভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় তিনটি সার্কেলের ভূমি কমিশনারের কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় দুটি সার্কেল অফিসে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত দেখতে পান তিনি। পরে হাজিরা খাতা যাচাই করতে গিয়ে অনুপস্থিত থাকা অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর আগে থেকেই দেওয়া থাকার বিষয়টি নজরে আসে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ ঘটনায় শোকজ হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন, গাড়িচালক নাদিম হায়দার, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ, চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাত।
সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় ওই ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে হাজিরা খাতায় তাদের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সবাইকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত না থাকলেও অনেকের হাজিরা দেওয়া হয়ে গেছে। এটা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে সেবা দেওয়া। এটি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। তাই নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। জনগণ যাতে সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হতে হবে।’
পরিদর্শনকালে ভূমি অফিসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘কয়েকজন নারী কর্মকর্তা একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অফিসে উপস্থিতি ও হাজিরা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এসব ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেই সরকারি সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ববোধ ও মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দপ্তরে জনগণ যেন হয়রানি ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে জনগণের সেবা দেওয়াই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রধান দায়িত্ব।’
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available