• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ রাত ০২:৪৪:৩২ (29-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে সাতক্ষীরা, দুর্ভোগে জনজীবন

১৮ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৫:২৫:৪০

টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে সাতক্ষীরা, দুর্ভোগে জনজীবন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দু’সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। ডুবে গেছে বাড়িঘর ও ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত রোগ। পৌরসভায় অচল হয়ে পড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও শহরতলীতে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করাকে জলাবদ্ধতার কারণ বলছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া অতিবর্ষণে জেলার কোটি টাকারও অধিক মাছ ভেসে গেছে। ৬ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, পহেলা জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ৪শ’ ৪৮ মি. মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে হয়েছে। এরমধ্যে ৮ জুলাই সর্বোচ্চ ১শ ৭৯ মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

খুলনা বিভাগের প্রথম পৌরসভা সাতক্ষীরা। আর সেই পৌরসভার কামালনগর, ইটাগাছা, মধুমোল্যারডাঙ্গী, বদ্দীপুরকলোনী, মধ্যকাটিয়া,রইচপুর, রাজারবাগান, পুরাতন সাতক্ষীরাসহ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে কোমরসমান জলাবদ্ধতা। এতে বেড়েছে চরম নাগরিক দুর্ভোগ।

আরও পড়ুন

সোনারগাঁয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ডুবে যাওয়া ঘর-বাড়িতে রান্না-বান্না দুষ্কর। সাপ ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রবে আতঙ্কিত জনসাধারণ। রাস্তা জলমগ্ন থাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে অনেক এলাকায়।

এ বিষয়ে বদ্দীপুর কলোনির জাহেদা খাতুন জানান, “আমরা ১ যুগ ধরে এ অবস্থায় আছি। বৃষ্টি হলেই আমাদের এই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রান্না-বান্না করা সম্ভব হয় না। ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মধ্যে বসবাস কওর আমরা ন্যূনতম নাগরিক সেবা পাই না।  

রইচপুর এলাকার শাহিনুর রহমান জানান, “বৃষ্টির পানি সরছে না। রইচপুরের নিচের দিকে অনেকগুলো মাছের ঘের। তাই পানি সরতে পারছে না। দীর্ঘদিন জমা পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। তাই ঘরে ঘরে চর্মরোগ বেড়েছে।

আরও পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত

এ বিষয়ে ইটাগাছা এলাকার এনামুল হক জানান, আমাদের পরিবারের সবার পায়ে ঘা-পাচড়া হয়েছে। একদিকে যেমন প্রচুর চুলকাচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালা-যন্ত্রনাও করছে।

মধ্যকাটিয়া এলাকার আমেনা খাতুন জানান, “আমাদের পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। তারওপর এখন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে পরীক্ষা। মানুষ গ্রাম থেকে শহরে আসে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা যাতে ভালো হয়, তার জন্য। আর আমাদের কী কপাল! জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারিনা।”

শহরের মধ্যে বিধিবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। এছাড়া শহরতলীতে যত্রতত্র মাছের ঘের জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ বলে মনে করেন নাগরিক অধিকার উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা।

আরও পড়ুন

মাদারীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

তিনি বলেন, “সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার অধিকাংশ জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা পড়েছে বিপাকে। রসুলপুর, কামালনগরসহ বিভিন্ন জায়গায় এই যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, এটা দূর করতে খালগুলো গভীর করতে হবে। এছাড়া যারা যত্রতত্র মাছ চাষ করছে, পানি আটকে রাখছে-এগুলো অপসারণ করা আমাদের দাবি। এছাড়া নেট-পাটা অপসারণ করাও জরুরি।”

পৌরসভাসহ সাতক্ষীরা সদর ‍উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত। তিনি বলেন,“বিগত সময়ের মতো এবারও কিছু পয়েন্ট করে সেখানে কেটে বা ড্রেন করে বা খাল খনন করে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে বদ্দীপুর কলোনীতে জলাবদ্ধতা প্রকট। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কলুবোল্লার খালের যে অংশে চর পড়েছে, সেই অংশ খনন করে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা। আর কামালনগর খালের বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করব। আর সিল্টেড স্লুইস গেটগুলো, যেগুলো জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ, সেগুলো অপসারণের চেষ্টা করছি। এগুলো বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে।

এছাড়া অন্যান্য ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন বলেন, “অতিবর্ষণে জেলার ৬৩টি প্রাইমারি স্কুল জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। এর মধ্যে আশাশুনি উপজেলায় ২০টি, কলারোয়ায় ১০টি, তালায় ১টি, শ্যামনগরে ১২টি ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২০টি স্কুল ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। চেয়ার-বেঞ্চ ডুবে যাওয়ায় সেসব স্কুলগুলোতে ক্লাস চালানো খুবই কষ্টের। তবুও কোমলমতি শিশুদের কথা ভেবে কষ্ট করে হলেও ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার বাগডাঙ্গি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে পারছেন না শিক্ষকরা।”

আরও পড়ুন

রংপুরে মাদক সেবনের দায়ে ২ যুবককে কারাদণ্ড

জেলা মৎস্য অফিসার জিএম সেলিম জানান,“বৃষ্টির পানিতে ২ শতাধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে, যার আনুমানিক ক্ষয়-ক্ষতি কোটি টাকা। ‘’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘৬ হাজার হেক্টর আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে। আর কিছু সবজি ক্ষেত পচে গেছে।’ 

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ




এক দিনে বাংলাদেশের দুই জয়
এক দিনে বাংলাদেশের দুই জয়
২৮ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৯:২২:৪৩






ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা
২৮ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৩৪:৫৬