ক্রীড়া প্রতিবেদক: মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানটান উত্তেজনাকর এক ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিমের অভিষেক সেঞ্চুরি এবং তাসকিন-নাহিদ রানার কার্যকর বোলিংয়ের পর শেষ ওভারের স্নায়ুযুদ্ধে রিশাদ হোসেনের দারুণ বোলিংয়ে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। এই জয়ের ফলে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে নবম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
১৫ মার্চ রোববার সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচে জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পাকিস্তানের সালমান আলী আঘা। তাকে আউট করে দেন তাসকিন আহমেদ, তখন মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের জয় সময়ের অপেক্ষা। শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৮ রান।


তবে ৪৯তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে টানা দুই ছক্কা মেরে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। এমনকি ওই ওভারের পঞ্চম বলে শাহিনের শটে মোস্তাফিজ আঘাত পাওয়ায় ওভার শেষ করতে পারবেন কি না তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দেয়। কিন্তু তিনি ফিরে এসে শেষ বলটি করেন এবং একই সঙ্গে তুলে নেন হারিস রউফের উইকেট।

ফলে শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার পড়ে ১৪ রান। তিন পেসারের কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অধিনায়ক আক্রমণে আনেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে। আগের ছয় ওভারে ৫৪ রান দিলেও শেষ ওভারে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। দ্বিতীয় বলেই ম্যাচ শেষ করার সুযোগ তৈরি হলেও নিজের ক্যাচ নিজেই ফেলেন। এরপরও ১৩ রান রক্ষা করতে গিয়ে তিনি দেন মাত্র ২ রান। ফলে পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে ১১ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।
এর আগে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ গড়ার মূল কৃতিত্ব ছিল তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে। তার সেঞ্চুরির সঙ্গে অন্যদের ছোট ছোট অবদানে লড়াই করার মতো পুঁজি পায় দল।
রান তাড়ায় শুরুতেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। ১৭ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারায় তারা। আগের ম্যাচের ম্যাচসেরা মাজ সাদাকাতকে আউট করেন নাহিদ রানা। আর সাহিবজাদা ফারহান ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। পরে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন গাজী ঘড়ি ও আব্দুল সামাদ। পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেটে ৪১ রান তোলে পাকিস্তান।
দলীয় ৬৭ রানে ঘড়ির উইকেট নিয়ে ৫০ রানের জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। এরপর ৮২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। তখন দলকে টেনে তোলেন সালমান আলী আঘা ও সাদ মাসুদ। দুজনে মিলে ৭৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন পাকিস্তান।
৩২তম ওভারে তাসকিন আহমেদ মাসুদকে আউট করলে ভাঙে এই জুটি। মাসুদ ৪৪ বলে ৩৮ রান করেন। অন্যপ্রান্তে একাই লড়াই চালিয়ে যান সালমান। রিশাদকে ছক্কা মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি।
শেষ দিকে নাহিদ রানাকে ছক্কা মেরে ৮৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সালমান। তার ব্যাটেই এগোতে থাকে পাকিস্তান। তবে ৪৮তম ওভারে তাসকিন আহমেদের স্লোয়ারে আউট হন তিনি। ফেরার আগে ৯৮ বলে ১০৬ রান করেন সালমান, ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দারুণ। ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমের জুটিতে পাওয়ার প্লেতে আসে ৫০ রান। দলীয় ১০৫ রানে সাইফ আউট হলে ভাঙে ওপেনিং জুটি। তিনি ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে জুটি গড়েন তামিম। শান্ত আউট হওয়ার আগে দুজনে মিলে ৫৩ রান যোগ করেন। এরপর সালমান আগাকে ছক্কা মেরে নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ হাসান তামিম।
৯৮ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় ১০৭ রান করে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার। সেঞ্চুরির পর আবরার আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে।
শেষদিকে লিটন কুমার দাস ও আফিফ হোসেন মিলে ৬৮ রানের জুটি গড়েন। লিটন ৫১ বলে ৪১ রান করে আউট হন। অন্যদিকে হৃদয় ৪৪ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের হয়ে তিন উইকেট নেন হারিস রউফ।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available