এক মামলায় জামিন পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী নিম্ন আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন পেয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত তাঁর ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ফলে মামলার বিচার শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পক্ষে আইনজীবী আদালতে উপস্থিত থাকতে পারবেন।২৮ জুলাই মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে হাজির হন আইভী। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে জামিন দেন এবং ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন মঞ্জুর করেন।আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইভী বলেন, ‘আমি সবসময় নারায়ণগঞ্জে হত্যা, অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আজ আমিই নাকি অপরাধী। যাই হোক, এর বিচার আল্লাহ আছেন, আমার নারায়ণগঞ্জবাসী আছেন, তারা দেখবেন।’আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, সদর মডেল থানায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করেছেন। অভিযোগপত্রে সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ ৬৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, মামলার এজাহারে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম ছিল না। তবে গত বছরের ১৮ নভেম্বর তাঁকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। দীর্ঘ ৩৯১ দিন কারাগারে থাকার কারণে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়টি আদালতের নজরে এনে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।এর আগে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে আইভীর অনুসারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে গ্রেফতার হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার অভিযোগে মোট ১২টি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। দুই দফায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নতুন কোনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার না দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হলে তাঁর মুক্তির আইনি জটিলতা দূর হয়।