• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১৪ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বিকাল ০৪:২৪:৫২ (29-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
দেশে ফিরতে চায় ইউক্রেনে ‍যুদ্ধবন্দি দুই বাংলাদেশি

দেশে ফিরতে চায় ইউক্রেনে ‍যুদ্ধবন্দি দুই বাংলাদেশি

আন্তর্জতিক ডেস্ক: ইতালিতে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনে আটক দুই বাংলাদেশি। তাদের দাবি, রুশ ভাষায় লেখা নথিতে সই করিয়ে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠানো হয়। পরে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার নির্দেশ পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে আটক হন তারা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বার্তায় নিজেদের পরিচয় দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কামরুল হাসান এবং সুমন শাহরিয়ার। বর্তমানে ইউক্রেনের একটি বন্দিশিবিরে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।ভিডিওতে কামরুল বলেন, জীবিকার উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি রাশিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে যান। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকেন। সে সময় উদ্বেগ গেমার নামে পরিচয় দেওয়া এক দালালের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। দালাল ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা চুক্তি করেন এবং অগ্রিম ৫ লাখ টাকা নেন।তাদের অভিযোগ, মস্কো থেকে তুলায় নিয়ে রুশ ভাষায় লেখা কিছু নথিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। ভাষা না বোঝায় তারা আপত্তি জানালেও পরে রুশ সেনাসদস্যরা এসে তাদের একটি সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তিন দিন রাখার পর ৩৫ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং পরে ইউক্রেন সীমান্তের দিকে পাঠানো হয়।কামরুল বলেন, মার্চের মাঝামাঝি এক অভিযানে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি ও সুমন পালানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেনা পোশাক, অস্ত্র ও সরঞ্জাম ফেলে তারা ইউক্রেনের দিকে হাঁটতে থাকেন। পরে ইউক্রেনীয় সেনারা তাদের আটক করে।সুমনও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, তারা ইতালিতে চাকরির আশায় অর্থ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগের পরিবর্তে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর চুক্তিতে সই করানো হয়।এদিকে ইউক্রেন-সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করা পোল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউক্রেনে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে তারা অবগত আছেন এবং স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।এর আগে ব্যাংককভিত্তিক ফর্টিফাই রাইটস এবং ইউক্রেনভিত্তিক ট্রুথ হাউন্ডস-এর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১০৪ জন বাংলাদেশি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পেয়েছেন এবং তাদের মধ্যে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কারখানার শ্রমিক, ইলেকট্রিশিয়ান বা নিরাপত্তাকর্মীর চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে রুশ ভাষার চুক্তিপত্রে সই করানো হয় এবং পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।সূত্র: দ্যা ডেইলি স্টার