সাফে হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্নপূরণ হলো না মেয়েদের
স্পোর্টস ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গোয়ায় গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এই জয়ের মাধ্যমে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা জিতল ভারত।গোয়ার পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ভারত ছিল বেশি কার্যকর। অন্যদিকে কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।ফাইনালের আগে বাংলাদেশ শিবিরে ছিল কিছু উদ্বেগ। ইনজুরির কারণে পুরো টুর্নামেন্টেই নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না দলের অন্যতম ভরসা মনিকা চাকমা। মাঝমাঠেও প্রত্যাশিত প্রভাব রাখতে পারেননি অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। একাদশে ঘন ঘন পরিবর্তন এবং সমন্বয়ের ঘাটতির প্রভাবও ফাইনালের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট ছিল।গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে সেমিফাইনালের একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশের কোচ পিটার জেমস বাটলার। সুরভী আকন্দ প্রীতি ও উমহেলা মারমার জায়গায় সুযোগ পান শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং তহুরা খাতুন। পাশাপাশি গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে শুরুর একাদশে না থাকা আফঈদা খন্দকারকেও প্রথম থেকেই মাঠে নামানো হয়।ম্যাচের শুরুতেই কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। ১২ মিনিটে তহুরা খাতুনের ক্রস থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র। দুই মিনিট পর গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও ব্যর্থ হন তহুরা। পরে এই দুটি মিসই বাংলাদেশের জন্য বড় আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায়।প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচে এগিয়ে যায় ভারত। ৪২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে পেয়ারি শাশা গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। তবে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঋতুপর্ণা চাকমা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে দুর্দান্ত এক গোল করে সমতা ফেরান। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে তার নেওয়া কোনাকুনি শট জালে জড়ালে ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও এগিয়ে যায় ভারত। ৪৭ মিনিটে সানফিদা নংরুমের শট ঠেকাতে গিয়ে গোলরক্ষক মিলি আক্তার বিপাকে পড়েন। তার হাত ছুঁয়ে বল ক্রসবারে লেগে জালে প্রবেশ করলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। ৫৬ মিনিটে মারিয়া মান্দার শক্তিশালী শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ভারতের এক ডিফেন্ডার। সুযোগটি কাজে লাগলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু ভাগ্য সেদিন বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় ভারত। বাংলাদেশের আক্রমণে প্রয়োজনীয় ধার না থাকায় স্বস্তিতে খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। ম্যাচে ফেরার আশায় কোচ বাটলার দ্বিতীয়ার্ধে মনিকা চাকমা ও সাগারিকা আক্তারকে নামালেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।শেষ পর্যন্ত ৮৩ মিনিটে লিন্ডা কম সার্তোরের গোল বাংলাদেশের শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেয়। ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি লাল-সবুজের মেয়েরা। শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় ভারতের শিরোপা উদযাপন, আর বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চোখেমুখে ফুটে ওঠে অপূর্ণ স্বপ্নের হতাশা।উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেবারও প্রতিপক্ষ ছিল ভারত এবং হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। এরপর ২০২২ ও ২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়ে টানা দুইবার শিরোপা জিতে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে বাংলাদেশ। তবে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন পূরণ হলো না। রানার্সআপ ট্রফি নিয়েই দেশে ফিরতে হবে মারিয়া মান্দার, ঋতুপর্ণা চাকমা, আফঈদা খন্দকার ও তাদের সতীর্থদের।সূত্র: দেশ রূপান্তর