• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ১৬ই শ্রাবণ ১৪৩৩ রাত ১২:৩০:২৫ (01-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:
দখলকারীদের দুই সপ্তাহের আলটিমেটাম, এরপরই উচ্ছেদ অভিযান

দখলকারীদের দুই সপ্তাহের আলটিমেটাম, এরপরই উচ্ছেদ অভিযান

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাসানী খাল অবৈধ দখলমুক্ত করতে প্রশাসন মাঠে নেমেছে।৪ জুলাই শনিবার পরিচালিত অভিযানে দখলকারীদের আপত্তির পর উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে খালে থাকা মাছ তুলে নেওয়ার জন্য দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল খালি না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে সব অবৈধ বাঁধ ও স্থাপনা অপসারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।পূর্বঘোষিত এ অভিযানে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাত, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ আতিয়া খাতুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৭ সালে খালটির ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও এরপর আর নতুন কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। তবুও একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছে। এতে লবণ পানি প্রবেশের কারণে কৃষিকাজ, পানি নিষ্কাশন এবং স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।অন্যদিকে, খালে মাছ চাষকারীরা প্রশাসনকে জানান, খালে তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ অপসারণ করলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই মাছ তুলে নেওয়ার জন্য কিছু সময় দেওয়ার আবেদন করেন তারা।পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন দখলকারীদের দুই সপ্তাহ সময় দেয়। এ সময়ের মধ্যে মাছ তুলে নিয়ে খাল দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাত বলেন, দেলভাসানী খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো প্রভাবশালী মহল আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে।জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, সরকারি খাল কোনোভাবেই ব্যক্তিগত দখলে থাকতে দেওয়া হবে না। দুই সপ্তাহের মধ্যে মাছ তুলে নিয়ে খাল খালি করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে খাল পুনরুদ্ধার করা হবে।এদিকে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত খালটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। অভিযানের সময় দখলকারীরাও প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সম্মতি প্রকাশ করেন।