ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিরোধী দলের বক্তব্যও গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ইন্টারভিউ আপনারা নেন না কেন? আমারও প্রশ্ন- মাঝে মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ইন্টারভিউ আপনারা নেন না কেন? আমি তো দিয়েছি। অনেক দিয়েছি।’
২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশি-বিদেশি অনেকেরই দেশের পরিস্থিতি এবং বিরোধী দলের চিন্তাভাবনা জানার আগ্রহ থাকে। এ কারণে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের বক্তব্যও গণমাধ্যমে আসা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘উনার (প্রধানমন্ত্রীর) কথাগুলো তো জাতির শোনা দরকার। আমাদেরটাও শোনা দরকার। আমার চেয়ে আগে উনার ভাবনা দরকার কারণ এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব উনার ওপরে।’
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তিনি নিজেও প্রয়োজন অনুযায়ী গণমাধ্যমে কথা বলবেন। তবে একসঙ্গে অনেক সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়েও তিনি একটি ভারসাম্য রাখার কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দিলেও মুসিবত, না দিলেও মুসিবত। এইটার মাঝখানে একটা যুক্তিসংগত কিছু একটা করা হবে ইনশাআল্লাহ।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশটা সরকারি দলেরও না, বিরোধী দলেরও না। দেশ ভালো থাকলে আমরা সবাই ভালো। দেশ বিপদে পড়লে আমরা সবাই বিপদে।’
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থকে কোনো দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। জনগণের অধিকার ও স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম ঠিক থাকলে অন্য তিনটি সাংবিধানিক স্তম্ভও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের দাবি নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল কর্মসূচি দিলে সেটিকে দলীয় প্রচারণা হিসেবে না দেখে জনস্বার্থের বিষয় হিসেবে গণমাধ্যমে যুক্তিভিত্তিক ও ন্যায্য কাভারেজ দেওয়া প্রয়োজন।
‘আমরা ক্রেডিটের জন্য আন্দোলন করছি না। আমরা জনগণের অধিকার পাহারা দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছি’—বলেন জামায়াত আমির।
গণমাধ্যমের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলো যাতে গণমাধ্যম সময়মতো জানতে পারে, সে বিষয়ে দলীয় মিডিয়া বিভাগকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা সরকারের বিষয়ে একপাক্ষিক বয়ান তৈরি হলে সমাজের জন্য তা ইতিবাচক নয়।
সূত্র: জাগো.....নি
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available