ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২৫টি কোম্পানি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ আনা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে আগ্রহের কথা জানিয়েছে দেশটির ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল।
১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সভাপতি রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতা অতুল কেশপ যৌথ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
মাহাদী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসেছে। রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা গত তিন দিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের একটি অংশের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হয়েছে।
মাহাদী আমিন বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা নীতিগুলো বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

অতুল কেশপ বলেন, বাংলাদেশে এসে প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের সদস্যদের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়ে তারা আনন্দিত। গত কয়েক দিনে সরকারের সঙ্গে তাদের বেশ কিছু ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়ী নির্বাহী বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২৫টি কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করছেন।
অতুল কেশপ বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এসব কোম্পানি ব্যবস্থাপনা, নৈতিকতা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চমানের সক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যে পরিকল্পনা, তা তারা স্পষ্টভাবে শুনেছেন। বাংলাদেশের বিপুল মানবসম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন, সেটিকে তারা সমর্থন করেন।
তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্যকে তারা বিশ্বাস করেন। এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় জ্ঞান নিয়ে এসে বাংলাদেশের জনগণের সমৃদ্ধি ও কল্যাণে অবদান রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
অতুল কেশপ বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। মার্কিন কোম্পানিগুলো কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে। সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও কর রাজস্ব তৈরিতে তারা ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা অব্যাহত রাখতে চায়।
ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সদস্য হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকারের কাছ থেকে সামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক কল্যাণ, কর্মসংস্থান ও চাকরি সৃষ্টি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে তারা অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা পেয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে পাওয়া এসব বার্তা তারা নিজ নিজ কোম্পানি এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের কাছে তুলে ধরবেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছেও বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা ও এখানকার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরবেন।
বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে আগামী কয়েক দশক ধরে অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে অতুল কেশপ প্রধানমন্ত্রী, সরকারের সদস্য, সচিব, উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, প্রতিনিধিদলে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, ইউএস চেম্বার অব কমার্স, এক্সিলারেট এনার্জি, শেভরন, মেটা, ভিসা, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল, মেটলাইফ, বোয়িং, উবার, অ্যাপল, দ্য এশিয়া গ্রুপ, এপিআর এনার্জি, জিই ভেনোভা, ভিএফ কর্পোরেশন, কর্টেভা এগ্রিসায়েন্স, সেলসফোর্স, উলকা সেমি, পাঠাও, সিসকো, এভোট, মেট্রোট্র্যাক, এইচএসবিসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, অ্যানকললেস ও ড্রিনকোয়েলের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available