• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৫শে আশ্বিন ১৪৩৩ দুপুর ১২:৫৪:০৫ (10-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

১০ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১১:৫৩:৪৪

ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

ডেস্ক রিপোর্ট: সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেছেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য কিংবা বিভেদের শিকার হতে হবে না। প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবেন।

১০ অক্টোবর শনিবার সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল ৬টার দিকে বনানী মাঠে পৌঁছালে মাহদী আমিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন আয়োজক সংগঠনের নেতারা। পরে সেখানে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মহালয়া উদ্‌যাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া নতুন আশার আলো এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা বহন করে। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এ উৎসবের মূল শিক্ষা।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয় হবে—আমরা সবাই বাংলাদেশি।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার এই আয়োজনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই মিলে এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন।

মাহদী আমিন আরও বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যেন বৈষম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ। রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দীর্ঘ সময় পর এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে পূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি মানুষের মধ্যে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।

শারদীয় দুর্গোৎসবকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃঢ় বন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ। মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই দেশের অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সার্বিক জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। এ কারণেই সরকারের অঙ্গীকার—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

দেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মহালয়ার শুভবার্তা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের উপহাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী অলোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিনয় গোপাল রায়সহ অনেকে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ