• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৫শে আশ্বিন ১৪৩৩ সকাল ১১:৩৩:১৭ (10-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

স্কুলছাত্রী তাজমিনকে হত্যার আগে ধর্ষণও করেন সিএনজিচালক সুমন: পুলিশ

১০ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১১:০৩:১৯

স্কুলছাত্রী তাজমিনকে হত্যার আগে ধর্ষণও করেন সিএনজিচালক সুমন: পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক: নগরীর রেসকোর্স এলাকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

১০ অক্টোবর শনিবার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে চালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। গভীর রাতে কিশোরীকে একা পেয়ে চালক গন্তব্যে না গিয়ে ভিন্ন পথে গাড়ি চালাতে শুরু করে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তাজমিন অটোরিকশা থেকেই নিজের হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাবার কাছে ‘লাইভ লোকেশন’ ও বার্তা পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার আকুতি জানায়। তবে গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকায় সেই বার্তা সময়মতো দেখতে পাননি।

অটোরিকশাটি বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া পার হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি নির্জন ধানক্ষেতে গিয়ে থামে। সেখানে নিজেকে বাঁচাতে তাজমিন কয়েকটি ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চালক সুমন একাই তাকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ঘটনার পর অটোরিকশাটি ধানক্ষেতেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই স্থান থেকে তাজমিনের মরদেহ ও পাশে পড়ে থাকা অটোরিকশাটি উদ্ধার করে লালমাই থানা-পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত তাজমিনের দাফতরিক পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের কলতালিকা পর্যালোচনা করে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত থাকায় পরিবারসহ কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। সে নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল; তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে স্কুলে অনুপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিহতের পরিবারের তথ্যমতে, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে নগরীর হোটেল নূরজাহানের সামনে সবশেষ দেখা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ২টা ৫৮ মিনিটে সে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠায়। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা গিয়ে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সূত্র: ইত্তেফাক

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ










জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক আগামীকাল
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক আগামীকাল
১০ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ০৯:৪৩:১৭