নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার। এর মধ্যদিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের এক নতুন অধ্যায়।

১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।


আগামী মঙ্গলবার সকালে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
এমপিদের শপথ গ্রহণের পর একই দিন বিকেলে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে বঙ্গভবনে হাজির হবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন মো. সাহাবুদ্দিন।
এরইমধ্যে এ নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে আজ দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল জানান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। খুব দেরি হলেও এটা ১৬ কিংবা ১৭ (ফ্রেব্রুয়ারি) তারিখ। এর পরে যাবে না।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আত্মগোপনে এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে এক ধরনের আইনি আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রেস সচিব জানান, শপথের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
সংবিধানের ১৪৮ (৩) ধারা অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বা অসমর্থতায় তিনদিন পর অর্থাৎ চতুর্থ দিন থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ পাঠ করাতে পারেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদও এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টিকে ‘স্মুথ ট্রানজিশন’ হিসেবে দেখছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা এবং পুরো মন্ত্রিসভা এই লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সংসদ সচিবালয় ও বঙ্গভবন প্রস্তুত করার পুরো প্রক্রিয়াটি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সরাসরি তদারকি করছেন। ইতোমধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবনের বিভিন্ন অংশ মেরামত ও সংস্কার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শপথ কক্ষ, অধিবেশন কক্ষ, স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অফিসসহ প্রয়োজনীয় সব দপ্তর এখন ব্যবহারের উপযোগী। প্রটোকল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ গুছিয়ে এনেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয় সেদিন। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। আর ১১ দলীয় জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ছয়টি আসন। ১১ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে দু'টি আসন। এছাড়া একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available