নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকার। ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে— গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে। তবে সরকার বলছে, এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিবৃতিতে বলা হয়, গণভোটকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে এমন দাবি করা হচ্ছে যে, গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।
এ দাবির পক্ষে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ফটোকার্ড ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। ওই ফটোকার্ডে শিরোনাম ছিল— ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ’।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে প্রেস উইং জানায়, বক্তব্যটির মূল উৎস যাচাই করে দেখা গেছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
বিবৃতিতে অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই স্বাভাবিক সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন—সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বাজেট প্রণয়ন করবেন। একই সঙ্গে সংবিধানকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে মৌলিক সংস্কারের লক্ষ্যে তারা পৃথক শপথ নিয়ে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
প্রেস উইং আরও জানায়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নের পক্ষে ভোট বেশি হলে পরবর্তী জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়েই সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এরপর পরিষদের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে।
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, কোথাও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কথা উল্লেখ নেই। বরং এই সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা সরকার পরিচালনার পাশাপাশি সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
সবশেষে সরকার জানায়, সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। প্রচলিত কোনো আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর ইঙ্গিত নেই।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available