রাজশাহী ব্যুরো: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, সুযোগ কিন্তু বারবার আসে না। এবার সুযোগ এসেছে পরিবর্তনের, এটাকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা আর পূর্বের অবস্থা দেখতে চাই না। আমরা যদি সুযোগ হাতছাড়া করি, তাহলে বিপদে পড়বো।
১৮ জানুয়ারি রোববার সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত গণভোট ২০২৬ বিষয়ক বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের প্রচার গতিশীল করতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের মোট ভোটারের ৫০ ভাগ নারী। তাদের মধ্যে ৩৫ ভাগ লেখাপড়া জানে না। তারা সংসদ কী, উচ্চকক্ষ কী, গণভোট কী এসব বোঝে না। প্রান্তিক পর্যায়ের মা-বোনদের কাছে গিয়ে এগুলো বোঝাতে হবে। বৈষম্যের কথা, পরিবর্তনের এ কথাগুলো বোঝাতে হবে। মায়েরা কথাগুলো ভালোভাবে বুঝবে। আর এ কাজের জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগাতে নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
নূরজাহান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল আমরা তা করতে পারিনি। এরপর অনেক আন্দোলন হয়েছে। ২০২৪-এ যে গণ-অভ্যুত্থান বা ছাত্র জনতার আন্দোলন হলো, তার মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদ বিদায় করেছি। এ আন্দোলনে কেউ তার সন্তানকে হারিয়েছে, কেউ তার বাবাকে হারিয়েছে। আমরা আর রক্ত চাই না, আমরা আর কোনো আন্দোলন চাই না। আমাদের জীবনে যেন হত্যাযজ্ঞ দেখতে না হয়, বৈষম্য দেখতে না হয়। ইচ্ছা করলেই কেউ যেন আমাদের আর গুম করতে না পারে, কেউ যেন বিনা বিচারে শাস্তি না পায়।
কথাগুলো ভালোভাবে বোঝাতে সন্তানদের মাধ্যমে মা-বাবার কাছে বার্তা পৌঁছাতে হবে এমন মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, কৃষি বিভাগ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, এনজিও কর্মীর মাধ্যমে তাদের গ্রাহকদের কাছে এ তথ্য পৌঁছাতে হবে। মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে মুসল্লিদের নিকট তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। সেই সাথে তারা কী বুঝলো- তার ফিডব্যাক নিতে হবে। কীভাবে ভোট দিতে হবে তা তাদের বোঝাতে হবে। তাদের বলতে হবে, হ্যাঁ ভোটের চিহ্ন ‘টিক’।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা তৈরির জন্য বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, যারা এ নির্বাচন চায় না, তারা কিন্তু নানা রকমের উল্টাপাল্টা কাজ করছে। জনগণের মাঝে ভীতি ছড়াচ্ছে। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের প্রতিহত করা হবে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা থাকবে। কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। আমরা সকলে মিলে গুজবসহ সকল প্রকার অপরাধ প্রতিরোধে সোচ্চার হবো। জনগণকে বোঝাবো, গুজবে যেন তারা কান না দেয়।
এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আপনারা জনগণকে জানাবেন। তারা যেন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেন। আমরা শুধু জনগণকে বোঝাবো, কিন্তু ভোট দেওয়া তাদের দায়িত্ব। আপনারা কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে প্রচার করতে পারবেন না। এমনকি হাত তালিও দিতে পারবেন না। মনে রাখবেন, আপনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। তবে গণভোট হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা চালাতে পারবেন। এতে আইনগত কোনো বাধা নেই।


মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এন মাসুদ উল ইসলাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও স্বাস্থ্যের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
এর পর উপদেষ্টা রাজশাহী কলেজ শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষ্যে ‘ভোটের গাড়ি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলীসহ কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available