লাইফস্টাইল ডেস্ক: কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ হজমজনিত সমস্যা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলেই এ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
এআইআইএমএস, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এমন ১০টি পানীয়ের কথা জানিয়েছেন, যা প্রাকৃতিকভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে। এসব পানীয়ের মধ্যে রয়েছে- পানি, উষ্ণ পানীয়, আঁশসমৃদ্ধ ও প্রোবায়োটিকযুক্ত কিছু বিকল্প।
১. কুসুম গরম পানি- পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ মলকে নরম রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি হজমতন্ত্রকে আর্দ্র রাখতে এবং মলত্যাগ সহজ করতে সহায়ক হতে পারে।
২. প্রুন জুস- প্রুন বা শুকনো বরইয়ের রসে থাকে সরবিটল নামের একটি প্রাকৃতিক সুগার অ্যালকোহল এবং প্রচুর আঁশ। এটি অন্ত্রে পানি টেনে এনে মল নরম করতে সাহায্য করে। নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তার জন্য শুকনো প্রুনও খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া এতে থাকা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।
৩. কফি- ক্যাফেইনযুক্ত কিংবা ডিক্যাফ—দুই ধরনের কফিই অন্ত্রের সংকোচন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এ কারণেই অনেকের সকালে কফি পান করার পর মলত্যাগের তাগিদ অনুভূত হয়।
৪. কিউই স্মুদি- সম্পূর্ণ কিউই ফল দিয়ে তৈরি স্মুদিতে থাকে প্রচুর আঁশ এবং ‘অ্যাকটিনিডিন’ নামের একটি এনজাইম। এটি হজমে সহায়তা করে এবং নিয়মিত মলত্যাগে ভূমিকা রাখতে পারে।
৫. ইসবগুলের শরবত- ইসবগুল বা সাইলিয়াম হাস্ক একটি দ্রবণীয় আঁশ, যা পানি শোষণ করে মলকে নরম ও ভারী করে। তবে ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
৬. পিএইচজিজি- পার্শিয়ালি হাইড্রোলাইজড গুয়ার গাম (পিএইচজিজি) একটি প্রিবায়োটিক দ্রবণীয় আঁশ। এটি পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করা যায় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করতে পারে।
৭. ভেজানো চিয়া সীডের পানীয়- চিয়া সীড পানিতে ভিজিয়ে রাখলে জেলির মতো একটি মিশ্রণ তৈরি হয়, যা শরীরে আঁশ ও তরলের পরিমাণ বাড়ায়। এক টেবিল চামচ চিয়া সীড, পানি, শসার টুকরা, পুদিনাপাতা ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পান করা যেতে পারে।
৮. ভেজানো তোকমা- পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তোকমা ফুলে ওঠে এবং এতে থাকা আঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে মলত্যাগ সহজ হতে পারে।
৯. আদা চা- উষ্ণ আদা চা হজমে সহায়ক হতে পারে। আদায় থাকা প্রদাহরোধী উপাদান পাকস্থলীর খাবার খালি হওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে সাহায্য করে এবং খাবারের পর আরাম দিতে পারে।
১০. কেফির- কেফির হলো এক ধরনের ফারমেন্টেড প্রোবায়োটিক দুগ্ধপানীয়। এটি অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ করে, যা হজম ও নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া এতে ভিটামিন বি, কে ২ এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়তে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পানীয় মাঝে মাঝে হওয়া কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা নয়। যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠে, কিংবা তীব্র পেটব্যথা, রক্তপাত বা অকারণে ওজন কমার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available