আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি। পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার তেহরানের উদ্দেশে রওনা হন ইরানের প্রেসিডেন্ট ও তাঁর প্রতিনিধিদল।
২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং বেসামরিক হতাহতের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান চাপ ও নিষেধাজ্ঞার কাছে মাথা নত করবে না। একই সঙ্গে বিশ্বের সঙ্গে সহযোগিতা ও আলোচনার জন্য তেহরানের দরজা খোলা রয়েছে বলেও জানান।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্য শুরু হওয়ার পর জাতিসংঘের সভাকক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিনিধি বেরিয়ে যান। ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলও তাঁর বক্তব্যের সময় উপস্থিত ছিল না।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের নিউইয়র্ক সফরের সময় দেশটির বিমান চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। জাতিসংঘে আসা ইরানি প্রতিনিধিরা কীভাবে দেশে ফিরবেন, তা নিয়েও তিনি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের বিমান খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারের পাশাপাশি দেশটির বিমান সংস্থাগুলোকে জ্বালানি, অবতরণ, টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে।
তবে নিউইয়র্ক সফরের ক্ষেত্রে ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রত্যাবর্তন নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো অনিশ্চয়তার তথ্য পাওয়া যায়নি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পেজেশকিয়ান ও তাঁর প্রতিনিধিদলের পাঁচ দিনের সফর শেষে শনিবার তেহরানে ফেরার কথা ছিল।
সফরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে বক্তব্য দেন পেজেশকিয়ান। ২৬ সেপ্টেম্বর আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগের আলোচনার পর হামলা ও নিষেধাজ্ঞা আসায় ওয়াশিংটনের ওপর তেহরানের আস্থা কমেছে। তবে যুদ্ধের অবসান ও আঞ্চলিক সংকট সমাধানে আলোচনার মাধ্যমে পথ খোঁজার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি তিনি।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগও হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকের কথা জানানো হয়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শুক্রবার জাতিসংঘে জানান, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। এতে যুদ্ধবিরতি, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।
পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্ক সফর তাই একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থান তুলে ধরার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, অন্যদিকে চলমান যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available