ডেস্ক রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি চিঠি পৌঁছে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার জেদ্দায় ২৩তম ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সৌদি যুবরাজের কাছে প্রধানমন্ত্রীর চিঠিটি হস্তান্তর করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের সফর হয়েছে। এসব সফর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও উচ্চপর্যায়ের সফরের সম্ভাবনার কথাও জানান।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলোর একটি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর বাড়তে থাকা আগ্রহের কথা জানান। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
সৌদি আরবের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানেরও প্রশংসা করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এদিকে ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মক্কা চুক্তি বিশ্বের মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, চুক্তিটি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে হয়েছে এবং বাংলাদেশ এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। এতে বাংলাদেশের যোগদান বা না-যোগদানের বিষয়টি এখনো আসেনি। এটি নির্ভর করবে চুক্তির সদস্য দেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির তিন দেশ বাংলাদেশকে যুক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। চুক্তিটি সম্প্রসারিত হলে এটিকে মুসলিম বিশ্বের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এ চুক্তি গত ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বৈঠকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ আবদুল করিম আল-খারেজি, ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available