• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ২২শে ভাদ্র ১৪৩৩ দুপুর ০২:২২:৫৯ (06-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে কিয়েভের পথে ট্রাম্পের প্রতিনিধি উইটকফ-কুশনার

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬:০১

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে কিয়েভের পথে ট্রাম্পের প্রতিনিধি উইটকফ-কুশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে একটি চুক্তির পথ খুঁজতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার মস্কোয় অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে মন্তব্য করেছে ক্রেমলিন। তবে বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতির স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

মস্কোর বৈঠক শেষে রোববার কিয়েভের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে উইটকফ ও কুশনারের। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশা, মস্কোর মতো কিয়েভেও আলোচনা ফলপ্রসূ হবে।

ক্রেমলিনের কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য কয়েকটি উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।

উশাকভ বলেন, পুতিন মার্কিন প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ‘বাস্তব অগ্রগতি’ অর্জন করছে এবং নিজেদের লক্ষ্য পূরণে মস্কো আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে সংঘাতের ‘সব মূল কারণ’ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই যুদ্ধের পেছনে থাকা মূল কারণগুলো সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছে মস্কো। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই দূরপাল্লার বিমান হামলা জোরদার করেছে। তবে সম্মুখসারিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মস্কোর বৈঠকটি ছিল ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানান তিনি।

উশাকভ আরও বলেন, বৈঠকে শুধু ইউক্রেন সংকট নিয়ে আলোচনা হয়নি। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বড় প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। তার ভাষায়, সামগ্রিকভাবে বৈঠকটি ছিল সময়োপযোগী ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

পুতিনের বিনিয়োগবিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বৈঠকটিকে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৈঠকে দিমিত্রিয়েভ ও উশাকভ দুজনই উপস্থিত ছিলেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছেন পুতিন। বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, পরিস্থিতি কঠিন জেনেও ট্রাম্প সমঝোতা অর্জন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে অবদান রাখার চেষ্টা থেকে বিরত হননি।

এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন প্রস্তাব রয়েছে। তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

মার্কিন দূতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন পুতিন। এর আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরকে কেন্দ্র করে পুতিন রুশ বাহিনীকে তিন দিন কিয়েভে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। গত ১০ দিন ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দিন-রাত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দপ্তরেও হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বাড়াতে গ্রীষ্মজুড়ে দেশটির তেল শোধনাগার, তেল টার্মিনাল ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত মস্কোয় হামলা না চালানোর বিষয়ে কিয়েভ প্রস্তুত রয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।

ট্রাম্পের দূতদের মস্কো সফরের খবর প্রকাশের আগেই ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, পুতিন আরও ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ওই সূত্রের দাবি, দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশের পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়া পর্যন্ত সম্মুখরেখা নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই।

সূত্রটি আরও জানায়, রুশ কমান্ডারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুতিন আত্মবিশ্বাসী যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। তবে রাশিয়ার ধীরগতির অগ্রগতির কারণে পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকেরা এমন সম্ভাবনাকে ক্ষীণ বলে মনে করেন।

অন্যদিকে, বিপুল ত্যাগের বিনিময়ে রক্ষা করা ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভের মতে, এ ধরনের শর্ত মেনে নেওয়া কার্যত আত্মসমর্পণের শামিল।

ক্রেমলিন শুক্রবার জানিয়েছে, দুই বছর আগে এক ভাষণে পুতিন যে অবস্থান তুলে ধরেছিলেন, তা এখনো ‘অটল’ রয়েছে। ওই অবস্থানের মধ্যে রয়েছে—ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চলের পুরো ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ০২:১৮:২২









ভরিতে সোনার গহনার দাম কমল ২ হাজার ২১৬ টাকা
ভরিতে সোনার গহনার দাম কমল ২ হাজার ২১৬ টাকা
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২:০২:৩৫