আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পূর্ব উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারি বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও গাছপালা উপড়ে পড়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়টি স্থলে উঠে আসার একদিন পরও ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সরকারি হিসাবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বাড়ি ধসে পড়া, গাছ উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃতের সংখ্যা ৯ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল দিয়ে বুধবার ভোরে স্থলে উঠে আসে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ ঝড়টিকে তাদের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী তৃতীয় সর্বোচ্চ স্তরের ‘অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। স্থলে প্রবেশের পরপরই ঝড়টি শক্তি হারাতে শুরু করে।
বৃহস্পতিবার ভোরে আরও দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয় অর্ণব। এ সময় নিম্নচাপটি ছত্তীশগড় ও দক্ষিণ ওড়িশার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে রাজ্যটিতে অন্তত ১৫ হাজার বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনাসিম ও পশ্চিম গোদাবরি জেলা ছাড়া অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আগেই চিহ্নিত করতে পেরেছিল সরকার। এর ফলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সীমিত করতে সক্ষম হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ২০ জন নাবিকসহ মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেটিতে ২০ জন নাবিক ছিলেন এবং সাগর উত্তাল থাকায় বৃহস্পতিবারও জাহাজটি একই স্থানে আটকে ছিল।
ঝড়ের প্রভাবে সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার আশঙ্কায় আগেই অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় নিচু এলাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেনের চলাচল ও ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের উৎপত্তিস্থল বঙ্গোপসাগরে। এই অঞ্চল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। বঙ্গোপসাগরে তৈরি ঘূর্ণিঝড় প্রায়ই ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হেনে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। সূত্র: রয়টার্স
এটিভি/এসটিও
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available