আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য এবার সরকারি ছুটির তালিকায় লুনার নিউ ইয়ার ও দিওয়ালির সঙ্গে যুক্ত করলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এর মধ্য দিয়ে দুই প্রধান মুসলিম উৎসবকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দিলো যুক্তরাষ্ট্রের এই অঙ্গরাজ্য।
২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এ পরিবর্তনকে আইনে পরিণত করতে স্বাক্ষর করেন। এর আগে, ২০২৫ সালে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য প্রথম দুই ঈদকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
ক্যালিফোর্নিয়ায় কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের আইন ও সরকারি বিষয়ক পরিচালক উসামা মোকেদ্দেম লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এলএইস্টকে বলেন, আইনটিতে স্বাক্ষরের দিনটি ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য আনন্দের এবং বৃহত্তর মার্কিন মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
মোকেদ্দেম বলেন, মুসলিম সম্প্রদায় যখন ‘অযাচিত ও অন্যায্য সমালোচনার’ মুখোমুখি হচ্ছে, তখন এই ছুটির স্বীকৃতি এসেছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২৬ সালের মে মাসে সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে হামলার কথা উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, মুসলিম আমেরিকানরা দেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছেন।
ছুটির স্বীকৃতির অর্থ কী
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১০ লাখের বেশি মুসলিম বাস করেন। নতুন আইনের ফলে অঙ্গরাজ্যের কর্মীরা দুই ঈদ উদযাপনের জন্য বিদ্যমান বেতনসহ ছুটি ব্যবহার করতে পারবেন।
তবে কে-টুয়েলভ সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে এই আইন পুরো অঙ্গরাজ্যে বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করেনি। স্থানীয় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট চাইলে প্রয়োজনের ভিত্তিতে পুরো ডিস্ট্রিক্টে ঈদের দিন ছুটি ঘোষণা করতে পারবে।
মোকেদ্দেম আরও বলেন, ঈদ উদযাপনের জন্য স্কুলে অনুপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীরা অঙ্গরাজ্যের আইনকে এর ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করতে পারবে।
আদম খাজা বলেন, তিনি তার স্কুল ডিস্ট্রিক্টে পুরো ডিস্ট্রিক্টের জন্য ঈদের দিন ছুটি ঘোষণার দাবি জানাবেন। তার ভাষায়, ঈদ মুসলিমদের জীবনের একটি বড় অংশ হলেও স্কুলের ক্যালেন্ডার ও ডিস্ট্রিক্টের নীতিমালায় সবসময় সেটির প্রতিফলন ছিল না।
বিলটি যেভাবে আইনে পরিণত হলো
ম্যাট হ্যানি ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এবি ২০১৭ উত্থাপন করেন। বিভিন্ন কমিটির অনুমোদনের পর ২৬ মে বিলটি অ্যাসেম্বলিতে ৬৪-১ ভোটে পাস হয়। সিনেটের অনুমোদন ও সংশোধনীতে অ্যাসেম্বলির সম্মতির পর ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ২৭ সেপ্টেম্বর এতে স্বাক্ষর করেন।
আশ কালরা, স্টেফানি নগুয়েন ও আইশা ওয়াহাবসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। কেয়ার-ক্যালিফোর্নিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার আমেরিকান অ্যাফেয়ার্স এবং মুসলিম ইমপ্যাক্ট কাউন্সিলও বিলটির পক্ষে কাজ করেছে।
সূত্র: জিও নিউজ
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available