আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তিন দিনের এক উচ্চপর্যায়ের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় যৌথ ঘাঁটি অ্যান্ড্রুজে চীনা প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী মাদাম পেং লিয়ুয়ানকে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ঐতিহ্যগতভাবে ট্রাম্প সচরাচর বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের হোয়াইট হাউসে অভ্যর্থনা জানিয়ে থাকলেও শি জিনপিংয়ে ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অভ্যর্থনা জানানোর বিষয়টি বেশ ব্যতিক্রমী ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
শি জিনপিংয়ের তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফর ঘিরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান ইস্যু, ইরান যুদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদসহ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় আলোচনায় আসার কথা রয়েছে।
বুধবার বিমান থেকে নামার পর দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও তাঁদের স্ত্রীরা উষ্ণ কুশল বিনিময় করেন। এ সময় বিমানবাহিনীর সুসজ্জিত ব্যান্ড দলের সংগীত পরিবেশনা, তোপধ্বনি এবং আকাশে দুটি বি-১ বোমারু বিমানের লো-ফ্লাইওভারের মধ্য দিয়ে শি জিনপিংকে এক অভাবনীয় সামরিক সম্মাননা জানানো হয়।
সেখান থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, শি জিনপিংয়ের এই সফরে ইরানের যুদ্ধের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে।
এই তিন দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরে দুই নেতার আলোচনার টেবিলে প্রধানত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা, তাইওয়ান সংকট, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, ইরানের যুদ্ধ এবং সংকটময় খনিজ সম্পদের মতো জটিল ও সমসাময়িক বিষয়গুলো স্থান পাচ্ছে।
শির সফরের প্রথম দিনেই একটি বড় অর্থনৈতিক অগ্রগতির খবর জানিয়েছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের মধ্যকার অর্থনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে বর্তমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। এর ফলে দুই দেশ বাণিজ্যের নানা অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে এবং বোঝাপড়া আরও দৃঢ় করতে আরও কিছুটা সময় পেল।
শি জিনপিংয়ের এই সফরের বাকি দিনগুলোতেও রয়েছে জমকালো ও ব্যস্ত সব কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের স্টেট ফ্লোরে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, রোজ গার্ডেনে সামরিক অভিবাদন গ্রহণ এবং পরবর্তীতে দুই নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া, রাতেই হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে চীনা প্রতিনিধিদলের সম্মানে এক জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এই নৈশভোজে মার্কিন রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি জায়ান্ট ও করপোরেট প্রধানদের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় রয়েছেন আমাজনের জেফ বেজোস, টেসলার ইলন মাস্ক, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের সুন্দর পিচাই, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং অ্যাপলের টিম কুকের মতো বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তারা।
এরপর সফরের শেষ দিন শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেদির সঙ্গে ব্যক্তিগত চা চক্রে অংশ নেবেন শি জিনপিং ও তার স্ত্রী। এছাড়া ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শন করে ঐতিহাসিক সব মার্কিন জাতীয় দলিলপত্র ঘুরে দেখবেন তারা। এর পরপরই শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের কথা রয়েছে।
ওবামা প্রশাসনের সময় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বৈরিতা এবং বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available