আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউইয়র্কে আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে সরাসরি অংশ নিতে পারছেন না তিনি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞাও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও পিএলও সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর আগে আব্বাসের ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।
এর ফলে মাহমুদ আব্বাস এবারও নিউইয়র্কে গিয়ে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে পারবেন না। ২০২৫ সালের অধিবেশনেও যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ভিসা দেয়নি। পরে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনে তিনি ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও পিএলও যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া এবং আলোচনার পরিবর্তে একতরফাভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন। এসব কর্মকাণ্ডকে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও অভিযোগ করেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও পিএলও ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা দেওয়া এবং সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করা’ বন্ধ করেনি। এসব কারণ দেখিয়ে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমুখপাত্র পালোমা চাকন বলেন, ভিসা সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। জাতিসংঘের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার দায়িত্বকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাইয়ের সর্বোচ্চ মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে বলে জানান।
গত বছরও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও পিএলও কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি বা তাদের আগের ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। ফলে মাহমুদ আব্বাসকে সরাসরি নিউইয়র্কে উপস্থিত হওয়ার পরিবর্তে ভার্চুয়ালি অধিবেশনে বক্তব্য দিতে হয়েছিল।
এবারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available