• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ৩১শে শ্রাবণ ১৪৩৩ সকাল ১০:৪১:৩১ (15-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

মাটি খুঁড়তেই মিলল ১২০ কোটি টাকার স্বর্ণের ভান্ডার

১৫ আগস্ট ২০২৬ সকাল ০৯:২৩:৫৬

মাটি খুঁড়তেই মিলল ১২০ কোটি টাকার স্বর্ণের ভান্ডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পয়োনিষ্কাশনের নতুন পাইপ বসাতে মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্রায় ৯০ লাখ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২০ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণের ভান্ডার পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ও তাঁর সহকর্মীরা। বেলজিয়ামের ডেন্ডারমন্ডে একটি পুরোনো মদ তৈরির কারখানার জায়গায় কাজ করার সময় এ গুপ্তধনের সন্ধান মেলে।

গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন ওই শিক্ষার্থী। কোবে নামের তরুণটি প্রথমে মাটির নিচে ধাতব কিছু দেখতে পান। তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো এক ইউরোর মুদ্রা। কিন্তু খনন করতে গিয়ে স্বর্ণের বার বেরিয়ে এলে তাঁরা বুঝতে পারেন, বড় কোনো সম্পদের সন্ধান পেয়েছেন।

কোবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রথমে কয়েকটি মুদ্রা ভেবেই তাঁরা মাটি খুঁড়তে শুরু করেছিলেন। পরে স্বর্ণের বার দেখতে পেয়ে আবিষ্কারের ব্যাপকতা বুঝতে পারেন।

ব্রাসেলসের প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভ্যান ল্যাঙ্গেনহোভেসত্রাত এলাকায় একটি পুরোনো কারখানার স্থানে কাজ করার সময় স্বর্ণগুলো পাওয়া যায়। সেখানে স্বর্ণের মুদ্রা, স্বর্ণের টুকরা এবং নম্বরযুক্ত স্বর্ণের বার একটি ব্যাগে রাখা ছিল। সেগুলো একটি পুরোনো বাড়ির বেজমেন্টের ইটের দেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বাড়িটি উনিশ শতকের শেষ দিকে তৎকালীন কারখানার মালিক থিওফিলাস ভ্যান আসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল।

স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ওই স্থানে ১৮৯৯ সালে মদ তৈরির কার্যক্রম শুরু হয় এবং ১৯৭০ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সামাজিক কল্যাণ সংস্থা সিএডব্লিউ উস্ট-ফ্ল্যান্ডের উদ্যোগে ভবনটি সংস্কার করা হচ্ছে। সেখানে নতুন কার্যালয় ও আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বর্ণ পাওয়ার পর কোবে ও তাঁর সহকর্মীরা বিষয়টি গোপন না করে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে স্বর্ণগুলো ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।

পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় এখন স্বর্ণগুলোর উৎস ও মালিকানা যাচাই করছে। এগুলো চুরি করা সম্পদ কি না কিংবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

স্বর্ণের প্রকৃত মালিকানা নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান, ভবনের মালিক সামাজিক কল্যাণ সংস্থা এবং একসময় বাড়িটির মালিক ভ্যান আস পরিবারের উত্তরাধিকারীদের পক্ষ থেকে দাবি উঠতে পারে।

বেলজিয়ামের আইনে গুপ্তধনের সম্ভাব্য মালিককে দাবি জানানোর সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ মালিকানা দাবি না হলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পদটির মালিকানা নির্ধারণ করা হবে।

তবে এত বিপুল সম্পদ পাওয়ার পরও কোবে ও তাঁর সহকর্মীরা তা নিজেদের কাছে রাখার চেষ্টা করেননি। বরং কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেন। কোবে আশা করছেন, আইন অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত এই আবিষ্কারের জন্য তাঁরা কোনো পুরস্কার বা প্রাপ্য অংশ পেতে পারেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ