আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রাণালী বন্ধে পারাস্য উপসাগরে প্রায় ২০০ তেলের ট্যাংকার আটকে রয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক প্রায় ২০০টি তেলের ট্যাংকার আটকে রয়েছে। এসব ট্যাংকারের মালিকরা অপেক্ষা করছেন–বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথটির মধ্য দিয়ে চলাচল করা নিরাপদ কি না তা দেখার জন্য।


ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি জাহাজ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

বিবিসি বলছে, প্রায় ৬০টি সুপারট্যাংকার–যা বৈশ্বিক বহরের প্রায় আট শতাংশ–সেখানে আটকে আছে। এই ব্যাঘাত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের ওপরে নিয়ে গেছে।
এদিকে বুধবার ব্রিটিশ মেরিন ট্র্যাকিং এজেন্সি জানিয়েছে, কুয়েতের উপকূলে নোঙর করা একটি তেল ট্যাংকারের ক্রুরা জানিয়েছেন, একটি ছোট জাহাজ এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে জাহাজের বাম দিকে বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ট্যাংকার থেকে তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, যার কিছু পরিবেশগত প্রভাব পড়তে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। প্রতিবাদে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনি হত্যার প্রতিবাদে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
এ ছাড়া ইরানে হামলার প্রতিবাদে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, আর লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা করছে ইসরায়েল।
একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, ইরানে হামলায় নিহত ১১০০–এর বেশি বেসামরিক নাগরিক। আর লেবানে নিহতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available