আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপূজার মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। ১৭ অক্টোবর শনিবার দুর্গাপূজার সপ্তমীর সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে প্রবেশ করতে গিয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতায় ভারী বৃষ্টি শুরু হলে রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। এ সময় চোরবাগানের পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক মানুষ মণ্ডপের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এতে কয়েকজন পড়ে গিয়ে পদদলিত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মণ্ডপের ভেতরে বৃত্তাকার পথে চলাচলের জন্য একটি বিশেষ করিডর তৈরি করা হয়েছিল। ওই পথে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে দর্শনার্থীদের বের হওয়ার ব্যবস্থা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই করিডরেই বিপত্তি ঘটে। উদ্ধারকারীরা কয়েকজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাঁদের চিকিৎসা শুরু হয়। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশে ট্রাকচাপায় মন্দিরে আসা ১২ পুণ্যার্থী নিহত, আহত ২৭
ঘটনার পর হতাহতদের দেখতে হাসপাতালে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পূজার আয়োজকদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ পূজা কমিটির ১২ সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। দুর্ঘটনার পর চোরবাগানের মণ্ডপের আলোকসজ্জা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে।
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির এবারের মণ্ডপের ভাবনা ছিল ‘অরব’, যার ইংরেজি অর্থ ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’। শব্দের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছানোর ধারণাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপটি সাজানো হয়েছিল। এর নকশায় ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে দর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়।
তবে মণ্ডপের ওই বিশেষ কাঠামো ও দর্শনার্থীদের চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
এটিভি/এসআইআর
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available