আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাহাজগুলো যদি প্রণালীর ওমান অংশ দিয়ে চলাচল করে, তবে সেগুলোর ওপর হামলা চালানো হবে না।
তবে এই প্রস্তাবের সঙ্গে শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানি সূত্রের ভাষ্য, ওয়াশিংটন যদি তেহরানের দাবিগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত থাকে, তবেই এ প্রস্তাব কার্যকর করা সম্ভব হবে।


১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করেছে। এর উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবহন করা হয়। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য এর গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ এসব দেশের বড় অংশের জ্বালানি আমদানি এই পথেই হয়ে থাকে।

স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান এই প্রণালীতে অবরোধ জারি করে। ফলে তেলবাহী জাহাজগুলো বিকল্প দীর্ঘ পথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
এর প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে। বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজে শত শত জাহাজ আটকা পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে। বর্তমানে সেখানে কয়েক শ’ জাহাজ এবং দুই হাজারের বেশি নাবিক আটকে রয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি উন্মুক্ত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরুদ্ধার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রণালীটি পুরোপুরি মুক্ত করা সহজ নয়। কারণ, সংঘাত শুরুর পর ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর সমুদ্রপথে মাইন স্থাপন করে। কিন্তু এসব মাইনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান যথাযথভাবে নথিভুক্ত না থাকায় এখন সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোথায় কোথায় মাইন পাতা হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড নেই।
এদিকে মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। একই সঙ্গে ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করা হয়েছে, ফলে দেশটির বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
মাইন অপসারণে ইরান সহযোগিতা করবে কি না— এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও ইরানি সূত্র কোনো মন্তব্য করেনি। তবে জানা গেছে, ইরানের নতুন প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available