আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলা অব্যাহত থাকলে দেশটির আরও গভীরে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। রোববার গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে নতুন করে হামলা চালালে হুথিদের জবাব আরও বিস্তৃত ও তীব্র হবে। এবার সৌদি আরবের গভীরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
এর আগে রোববার হুথিরা দাবি করে, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। হুথি মুখপাত্রের দাবি, ঘাঁটির অস্ত্রের গুদাম ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইয়াহিয়া সারির দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় সৌদি আরব ইয়েমেনে প্রায় ১৩০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবেই সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে হুথিরা।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান শহরের বিভিন্ন বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হুথিদের হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলায় ৭৩ জন আহত হন। কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং সাময়িকভাবে কিছু কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
হুথিরা ওই হামলাকে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযানের জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে সংঘাতও তীব্র হয়েছে। হুথিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরনগরী দখল করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে হুথিদের দখলে যাওয়া এলাকাগুলো পুনর্দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ক্ষয়ক্ষতির পর সরকারি বাহিনীকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মারিব প্রদেশের গভর্নর সুলতান আল-আরাদা।
তিনি বলেন, সরকারি বাহিনীর সেনাদের পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং শিগগিরই তারা যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যাবে। পূর্ব উপকূলে হুথিদের কাছে পরাজয়কে তিনি ‘যন্ত্রণাদায়ক ও দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তবে যুদ্ধের সময় এ ধরনের ধাক্কা স্বাভাবিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আল-আরাদা আরও অভিযোগ করেন, হুথিরাই শান্তি প্রক্রিয়া শেষ করে দিয়েছে এবং এখন তারা ইয়েমেনে আবার যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করছে।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available