আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে খুলতে পারে নতুন ফ্রন্ট। ওই যুদ্ধে সরাসরি জড়ানোর সম্ভাবনা কম লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর। তবে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লে যুদ্ধে যোগ দিতে পারে তারা। এ জন্য ইরানের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছে গোষ্ঠীটি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালের একটি প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।
লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লেও ইরানের শাসনব্যবস্থার টিকে থাকা হুমকির মুখে পড়লে হিজবুল্লাহ যুদ্ধে জড়াতে পারে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা হয়েছে বলে মনে করে গোষ্ঠীটি।
তিনি জানান, খামেনি নিহত হলে হিজবুল্লাহ কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, সে বিষয়ে আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছিলেন গোষ্ঠীটির প্রতিনিধিরা।
গত মাসে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছিল, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় এখনো হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের উপস্থিতি রয়েছে। তারা সেখানে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ করছেন।
এদিকে, লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অন্তত তিন মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে হিজবুল্লাহ। এ জন্য ইরানের কাছ থেকে অর্থও পেয়েছে গোষ্ঠীটি।
সূত্রগুলোর দাবি, সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ইরান থেকে কয়েক কোটি ডলার পেয়েছে হিজবুল্লাহ। এর বাইরে আগে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রায় ২০ কোটি ডলারের অর্থও রয়েছে।
রয়টার্সের সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ বিস্ফোরক সংগ্রহ, ড্রোন তৈরি এবং নিজেদের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ করছে।
তবে এসব ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম দপ্তর। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর অর্থায়ন বন্ধে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এটিভি/এসআইআর
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available