• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১৮ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বিকাল ০৩:১৪:০২ (02-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

যোগদানের দাবিতে শাহবাগে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা

২ আগস্ট ২০২৬ দুপুর ০১:২৩:০১

যোগদানের দাবিতে শাহবাগে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা

অনলাইন ডেস্ক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।

২ আগস্ট রোববার সকাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জড়ো হয়ে কর্মসূচি পালন করছেন।

সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষকরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শাহবাগে সমবেত হচ্ছেন। দ্রুত যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে তারা স্লোগান দিচ্ছেন। জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা দাবি আদায়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী এখনো যোগদান করতে পারেননি। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের ১৭৫ দিন পার হলেও তাদের পদায়ন কিংবা যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়নি। নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।

এর আগে, গতকাল (শনিবার) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগ–সংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা শেষে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে নিয়োগে বিলম্ব হয়েছে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, আগামী ২৯ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে যোগদান করানো হবে। যোগদানের পর তাদের পদায়ন এবং পরে পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তবে আজ (রোববার) সকালে যোগদানের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫’-এর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। যথাসময়ে তাদের নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। যোগদানের পর পদায়ন সম্পন্ন করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে নতুন তারিখ ঘোষণার পরও আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেননি সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তাদের প্ল্যাটফর্মের নেতা দেবব্রত সরকার বলেন, চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে তারা বেকার অবস্থায় রয়েছেন। অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। তাই তারা এখনো আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের ঘোষণা দাবি করছেন। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিলে কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন জেলার কয়েকজন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, নিয়োগের সব ধাপ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকতে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যালয়ে যোগদান ও পদায়নের সুযোগ পেলে তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদানে যুক্ত হতে পারবেন। দীর্ঘ অপেক্ষা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। তবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগের সব ধাপ শেষ হলেও এখনো তারা যোগদান করতে পারেননি।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ