জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওই ভবনে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দুই মাস ধরে পাশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। একারণে পাঠদানের সময় সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে।
এর ফলে ভোর থেকে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে কোমলমতি দেড় শত শিক্ষার্থীকে। ক্লাসে সময় স্বল্পতার কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবনটি ভেঙে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালের বার্ত্তী গ্রামে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় কামালের বার্ত্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরে ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হয় বিদ্যালয়টি। এর আগে ২০০০ সালে এই বিদ্যালয়ে এক তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনটি একেবারে জরাজীর্ণ পড়েছে।
গত দুই মাস আগে পাঠদান চলাকালে ভবনের ছাদে বিকট শব্দ হলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ওই দিনই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একই গ্রামে অবস্থিত স্থানীয় কেবি মডেল সেসিপ উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেন।
এরপর থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সকাল ১০টায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু হয়, তাই এর আগেই সকাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হয়।
সময় স্বল্পতার কারণে প্রতি ক্লাসে ৫০ মিনিটের পরিবর্তে ৩০ মিনিট পাঠদান দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্লাসে চাপের কারণে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন বা প্রত্যহিক সমাবেশ করাও সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাই নয় খেলাধুলাও করতে পারছেন না এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাই দ্রুততম সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নতুন ভবন নির্মাণ করার দাবি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে গিয়ে আমরা সব বিষয়ে পাঠদান করতে পারছি না। প্রতিটি ক্লাসে যে সময় দেওয়া দরকার সেটাও হচ্ছে না। তার আগেই কক্ষ ত্যাগ করতে হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, বিদ্যালয়টির ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির ছাদে বিকট শব্দের পর থেকে সেখানে পাঠদান বন্ধ করে পাশের কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দ্রুত একটি ভবন নির্মাণ করা না হলে পড়াশোনায় চরম ব্যাঘাত ঘটবে এবং শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান রেজাউল করিম বলেন, বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে পাঠদান কার্যক্রম অন্য একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিফ্ট করা হয়েছে। এই বিদ্যালয়ে অস্থায়ী একটি গৃহ নির্মাণের জন্য ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অস্থায়ী ঘরটি নির্মাণ হলে নিজস্ব ক্যাম্পাসেই পূর্ণ সময়ে পাঠদান শুরু হবে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন বলেন, পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব নতুন ভবন নির্মাণ করা যায় সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available