আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রুশ বিমান হামলার কারণে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। মধ্যাঞ্চলীয় ক্রিভি রিহ শহরে অবস্থিত কারখানাটি পরিচালনা করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আর্সেলর মিত্তাল।
২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেন সরকারকে জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানাটিতে নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। গত পাঁচ সপ্তাহে চার দফা রুশ হামলায় কারখানাটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের অর্থনীতিতে ইস্পাত শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একসময় দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ১৫ শতাংশ এ খাত থেকে আসত। তবে রুশ হামলা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই খাতটি চাপের মধ্যে রয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনে রুশ বিমান হামলার মাত্রা বেড়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরবরাহব্যবস্থা, কৃষ্ণসাগরের বন্দর এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ।
শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া এখন ইউক্রেনীয়দের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গুদাম, তথ্য সংরক্ষণকেন্দ্র ও ইন্টারনেট সেবার অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা হচ্ছে। এতে মানুষের যোগাযোগ, পড়াশোনা ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ইউক্রেনের বাজেট ও প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। চলতি বছর প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ২৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে কিয়েভ।
জেলেনস্কি আরও বলেন, আগামী বছরের শুরুতে ড্রোন সরবরাহ নিশ্চিত করতে অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যেই নতুন করে ড্রোনের অর্ডার দিতে হবে। এ জন্য ইউক্রেনের নিজস্ব তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়েও নজর রাখছে ইউক্রেন। জেলেনস্কি ট্রাম্পকে চীনের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব কাজে লাগিয়ে রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউরোপের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে না তাঁর দেশ। ইউরোপের কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশ রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
পুতিন বলেন, ইউরোপের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো বাস্তব কারণ রাশিয়ার নেই। তবে ইউক্রেনকে সহায়তা করা ন্যাটোর অবকাঠামোয় রাশিয়া হামলা চালাতে পারে বলে ইউরোপের কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা সতর্ক করেছে।
এদিকে ফ্রান্স ও জার্মানিতে ইউক্রেনকে কম সমর্থনকারী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে শক্তিশালী হলে কিয়েভের প্রতি ইউরোপের সমর্থন কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ইউরোপের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, কিছু দেশে সমর্থন কমলেও ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ জন সিনেটর ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণ প্রত্যাহারের জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সিনেটরদের চিঠিতে বলা হয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ চলার মধ্যে পুতিনকে জি-২০ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলে রুশ সরকারের কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available