জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার যুবক মফিজ মিয়া জীবিকার সন্ধানে রাশিয়ায় গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন।
রাজমিস্ত্রির কাজের কথা বলে দালাল চক্র তাকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। ১৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও বার্তার মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন স্বজনরা।
মাত্র দেড় মাস আগে, গত ৭ মে উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছেড়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী যুবক মফিজ মিয়া। ঘরের অভাব দূর করতে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে এক দালালের মাধ্যমে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাশিয়ায়। কিন্তু ভাগ্য তাকে নিয়ে যায় এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি।
পরিবারের দাবি, রাজমিস্ত্রির কাজ দেওয়ার নাম করে নেওয়া হলেও রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর মানবপাচারকারী চক্র মফিজকে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর তাকে জোরপূর্বকভাবে পাঠানো হয় ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে। গত ২৯ মে'র পর থেকে পরিবারের সাথে মফিজের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
নিহত যুবকের মা মাহফুজা বেগম বলেন, কাজের কথা বলে আমার ছেলেকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কাজে না নিয়ে আমার ছেলেকে যুদ্ধের মাঠে দেওয়া হয়। এখন আমার ছেলের মুখটা দেখতে হলেও মরদেহটা দেশে এনে দেন। তাই তিনি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নিহতের ভাই বলেন, আমার ভাইরে কাজের কথা বলে নিয়া আর্মির কাছে বেচে দিয়েছে দালাল। ও ফোন করে কান্না করছিল যে ওরে যুদ্ধে পাঠাইতাছে। এখন আমরা অডিওতে শুনলাম ড্রোন হামলায় ও মারা গেছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমার ভাইয়ের মরদেহটা যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং দালালের বিচার হয়।
এ ঘটনায় মাদারগঞ্জের কড়ইচড়া ইউনিয়নে চলছে শোকের মাতম। মফিজের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জড়িত দালাল চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন চৌধুরী জানান, রাশিয়ায় নিহত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কিছু উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয় নি। পরিবার আবেদন করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হবে এবং পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available