জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার চাঁন্দাইর দারুলউলুম দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার এক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করলেও তার নামে নিয়মিত হাজিরা দেখিয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার পরিবর্তে অন্য একজন পাঠদান ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
২২ জুলাই বুধবার ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসায় অন্যান্য শিক্ষকদের উপস্থিত পাওয়া যায়। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক ফুয়াদ মাদ্রাসায় না আসলেও শিক্ষক জাহিদ ক্লাসে পাঠদান করাচ্ছেন খাতায় তিনি উপস্থিত রয়েছে। ফুয়াহাদের হয়ে জাহিদ ফুয়াদের বিপরীতে জাহিদ নামের এক শিক্ষক হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করছেন।
ফুয়াদ জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার চাঁন্দাইর দারুলউলুম দ্বি-মূখী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী জুনিয়র মৌলভী পদে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, আহাম্মেদাবাদ ইউনিয়ন ঝামুটপুর গ্রামে চাঁন্দাইর দারুলউলুম দ্বি মূখী দাখিল মাদ্রাসা ১৯৮৫ সালে স্থাপিত হয় বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও ১৮ জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন।
ওই মাদ্রাসায় ইবতেদায়ী শাখায় জুনিয়র মৌলভী হিসেবে ফুয়াদ এনটিআরসিএ সুপারিশ প্রাপ্ত শিক্ষক গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে মাদ্রাসায় অনিয়মিত তিনি না গেলেও শিক্ষক হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করছেন ফুয়াদ, এর সঙ্গে নিয়মিত বেতন ভাতাসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ফুয়াদ ঢাকায় বসবাস করেন। তবে ফুয়াদের একজন ভাড়াটিয়া শিক্ষক রয়েছে। জাহিদ নামের এক শিক্ষক ফুয়াদের ভাড়াটিয়া শিক্ষক। ওই শিক্ষক জাহিদ ফুয়াদ হোসেনের হয়ে পাঠদানসহ শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। আর এই কাজে সাহায্য করছেন মাদ্রাসার সুপার হাফিজার রহমান।
স্থানীয়রা জানান, এমনিতেই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এর মধ্যে ফুয়াদ ঢাকায় থাকেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক জানান, যোগদানের পর থেকেই ফুহাদ নিয়মিতভাবে শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকেন। প্রতি মাসে বেতন-ভাতা উত্তোলনের সময় তিনি একবার মাদ্রাসায় এসে এক-দুই দিন ক্লাস নেন। এরপর আবার ঢাকায় ফিরে যান। বাকি সময়ে তাঁর পরিবর্তে অন্য একজন দিয়ে পাঠদান করানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জানতে চাইলে ভাড়াটিয়া শিক্ষক জাহিদ বলেন, ফুয়াদ ঢাকায় আছেন। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করেন এজন্য কয়েক মাস তার ক্লাস আমি নিচ্ছি।
জানতে চাইলে চাঁন্দাইর দারুলউলুম দ্বি মূখী দাখিল মাদ্রাসার ইফতেদায়ী শাখার জুনিয়র মৌলভী ফুহাদের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
চাঁন্দাইর দারুলউলুম দ্বি মূখী দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাফিজার রহমান বলেন, ফুহাদ এক মাসের ছুটিতে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে মাদ্রাসায় ক্লাস নেন না।
ছুটিতে থাকা অবস্থায়ও তার নামে বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে এবং তার পরিবর্তে জাহিদ নামের এক ব্যক্তি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপার হাফিজুর রহমান স্পষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনসুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ঢাকায় অবস্থান করে ভাড়াটিয়া শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করার কোনো সুযোগম নেই। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available