• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ২৭শে শ্রাবণ ১৪৩৩ দুপুর ১২:১৬:১২ (11-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

টাঙ্গাইলে ৪ কোটি টাকার ব্রিজ অচল, চরম দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

১১ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০:৫৩:৫১

টাঙ্গাইলে ৪ কোটি টাকার ব্রিজ অচল, চরম দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে তেবাড়িয়া দপ্তিয়র রাস্তার ঘনিপাড়া অংশে নির্মিত প্রায় ৪ কোটি টাকার ব্রিজে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ।

অপরদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব স্পষ্ট করেন, প্রকল্পটি কিছু সংশোধন করে পুনরায় রি-টেন্ডার দিয়ে সেতুর বাকি কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জানা যায়, জেলার নাগরপুর উপজেলায় সলিমাবাদ ইউনিয়নের ঘুনিপাড়া গ্রামে ২০২৩ সালে এলজিইডি প্রকল্পে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু তিন বছর ধরে সেই সেতুর দুই পাশে গাইড ওয়াল ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় আব্দুর রশিদ বলেন, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগী আনা-নেওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় মানুষকে কাদা, পানি ও ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় মোটরসাইকেল, ভ্যান ও কৃষি পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত গাইড ওয়াল ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাই।

সলিমাবাদে ঘুনিপাড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় ৪ কোটি টাকার একটি ব্রিজ নির্মিত হলে মানুষের যাতায়াত কষ্ট দূর হবে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে স্কুল কলেজে যেতে পারবে। এমন প্রত্যাশাই ছিল ঘুনিপাড়াসহ ২০ গ্রামের মানুষের।

সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী তেবাড়িয়া দপ্তিয়র রাস্তার ঘুনিপাড়ার পশ্চিম অংশে প্রায় ৩ বছর আগে একটি ব্রিজ নির্মিত হয়। এলাকাবাসীর স্বপ্নও পূরণ হলো। কিন্তু সেই ব্রিজের উপর দিয়ে আজও চলাচল করতে পারলো না। কথাগুলো শুনিছিলেন ঘুনিপাড়া গ্রামের আমিনুর রহমান মিন্টু।

এদিকে সলিমাবাদ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগম পনু দাবি করেন, নাগরপুরে ব্রিজটি তিন বছর ধরে নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ব্রিজের কাজ শেষ হলেও মানুষের কোনো কাজে আসছে না। ব্রিজের দুপাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় শূন্যতায় রয়েছে। এতে করে কোনো নিরাপদ ওঠানামা ব্যবস্থা নেই।  

স্থানীয় মেম্বার জাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর তদারকি চোখে পড়েনি। ঠিকাদার ও এলজিইডি কর্মকর্তা অনিয়ম ও দুর্নীতি কারণে ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়নি।

রংপুরের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানার পক্ষে কাজ করেন উপঠিকাদার (কন্টাক্টর) রিপন। আর সেই উপঠিকাদার (কন্টাক্টর) কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ত্যাগ করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের অর্থ উত্তোলনের পর আর কোনো কাজ করা হয়নি।

এ বিষয়ে উপ ঠিকাদার রিপনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে বাড়িতে গিয়ে কথা বলতে বলেন। দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভুঁইয়া জানান, ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ব্রিজের পাশেই হাট-বাজার, স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। বর্ষাকালে কোমর পানি দিয়ে চলাচল করতে হয়। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নাগরপুর উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী কর্মকর্তা- ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব স্পষ্ট করেন, ব্রিজের অ্যাপ্রোচ কাজ সম্পন্ন হয়নি। মাটি ভরাট ও রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি কিছু সংশোধন করে পুনরায় রি-টেন্ডার দিয়ে সেতুর বাকি কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ






খাগড়াছড়ির তিন বিদ্যালয়ের সবাই ফেল
খাগড়াছড়ির তিন বিদ্যালয়ের সবাই ফেল
১১ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০:৩২:৫৮