অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে ষষ্ঠবারের মতো শুরু হয়েছে মুদ্রা প্রদর্শনী। বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটির (বিএনসিএস) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার শুরু হয়। প্রদর্শনী চলবে আগামীকাল ৩১ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত।
এতে দেশের ৪৩ জন মুদ্রাসংগ্রাহক তাদের সংগ্রহের ৬১টি বিষয়ের নির্বাচিত নিদর্শন উপস্থাপন করছেন ৪২টি ডিসপ্লে বক্সে। প্রতিটি সংগ্রহ যেন মুদ্রার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের একেকটি অধ্যায়কে নতুন করে জানার সুযোগ করে দেয়।
প্রদর্শনীর বিশেষত্ব হলো, এখানে মুদ্রাকে শুধু লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থব্যবস্থার বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
একটি মুদ্রা হাতে নিলে চোখে পড়ে তার নকশা, লেখা কিংবা ধাতব গড়ন। কিন্তু সেই মুদ্রার গায়েই থাকতে পারে কোনো শাসকের পরিচয়, হারিয়ে যাওয়া জনপদের ইতিহাস কিংবা কয়েক হাজার বছর আগের মানুষের জীবনযাত্রার গল্প।
কোনোটি এসেছে প্রাচীন রাজ্য থেকে, কোনোটি সুলতানি বা মোগল আমলের স্মৃতি বহন করছে। আবার কোনোটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর চালু হওয়া টাকার বিরল নমুনা।
প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ৩২০ থেকে ৫৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত গুপ্ত সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ থেকে শুরু করে মোগল আমল এবং বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির বিরল সব মোহর। এছাড়া প্রাচীন গান্ধার ও শাক্য জনপদের রৌপ্যমুদ্রার পাশাপাশি ১৬ থেকে ১৯ শতকে থাইল্যান্ড ও লাওসে প্রচলিত ব্রোঞ্জ বা বিলিয়নের তৈরি বাঘের জিহ্বা আকৃতির মুদ্রাও নজর কাড়ছে। প্রদর্শনীতে ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন নোট এবং বুরুন্ডির বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকারের ব্যাংক নোটসহ অসংখ্য দুর্লভ সংগ্রহশালা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
মুদ্রা সংগ্রহের শখকে জনপ্রিয় করা এবং নতুন সংগ্রাহক তৈরি করার লক্ষ্যে ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিএনসিএস। প্রদর্শনীতে মুদ্রা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালবাম, প্রটেক্টরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার সুবিধার্থে রাখা হয়েছে দুটি বিক্রয় বুথও।
এটিভি/এসটিও
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available