নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী এক কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।


গ্রেফতার অন্যরা হলেন- আহম্মদ আলী দেওয়ানের ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), একই এলাকার মৃত সাহাবুদ্দিনের ছেলে এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০) এবং হোসেন বাজার এলাকার মৃত মজিবুরের ছেলে গাফ্ফার (৩৪)।

অভিযোগ রয়েছে, পূর্বে সংঘটিত ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কিশোরীকে পুনরায় ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ সরিষা ক্ষেতে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, কিশোরীর বাবা বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে পরিবার নিয়ে বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিচার চেয়ে পরিবার আহম্মদ আলী দেওয়ানের দ্বারস্থ হলে অভিযুক্তরা টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে। রফাদফা না হওয়ায় পরিবারকে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে তাকে আবার তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে একই এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, ধর্ষক ও হত্যাকারীসহ সব অপরাধীদের জন্য আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available