অনলাইন ডেস্ক: যশোরে পারাবারিক কলহে বটির কোপে মায়ের মাথা বিচ্ছিন্ন করা সেই ছেলের কারাগারে মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
২ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ।
মারা যাওয়া মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) যশোর সদরের বাজে দুর্গাপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন।
গত ২৭ আগস্ট নিজ বাড়িতে পারিবারিক কলহের ক্ষোভে মা আনোয়ারা বেগমকে (৫৮) বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে সে সময় পুলিশ জানায়, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকতেন না। প্রায় পাঁচ বছর পর বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে আসেন। পরে মাকে হত্যার দায়ে পুলিশ তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামুন যখন গ্রেফতার হন তখন থেকেই অসুস্থ ছিলেন। পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি কারাগারের মেডিকেলে ভর্তি ছিলেন। গত ২৮ অক্টোবর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে জেল পুলিশ। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
বাজে দুর্গাপুর গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রব্বানী হোসেন সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জানান, গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই মামুন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। রোববার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। খুলনা কারাগার ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সকল কার্যক্রম শেষে মামুনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এসেছি। এশার পর নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, কারাগারে মামুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে নিয়ম অনুযায়ী তাকে আমরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ হস্তান্তরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা খুলনা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ করবে।
এটিভি/ এইচকে
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available