• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বিকাল ০৫:৪২:২০ (28-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

চট্টগ্রামে বন্যা-পাহাড়ধসে মৃত ৩৯, ক্ষতিগ্রস্ত ৯ লাখ মানুষ

১১ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০১:২১:৩৪

চট্টগ্রামে বন্যা-পাহাড়ধসে মৃত ৩৯, ক্ষতিগ্রস্ত ৯ লাখ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক: টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

১০ জুলাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৩ জন, চট্টগ্রামে আটজন, বান্দরবানে ছয়জন এবং রাঙ্গামাটিতে দুজন রয়েছেন। কক্সবাজারে নিহতদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার ১৬টি উপজেলা ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ২৩ হাজার ৮৫৩ জন।

আরও পড়ুন

গোপালগঞ্জে শিশু তালহা হত্যায় মৃত্যুদণ্ড-২, যাবজ্জীবন-১

সরকার বন্যাদুর্গতদের জন্য ৭০০ টন চাল ও ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ টন চাল, ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১৮ হাজার ৩৩০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ৪০০ টন চাল ও ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায়। দুই উপজেলায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়নেও বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে। বহু কাঁচাঘর ধসে পড়েছে এবং বিশুদ্ধ পানি, শিশুখাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন

রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা: নিহত ৪, আহত ১৪

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে ১২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাঁচটি জেলাকেই পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনও দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ

৮ বিভাগেই বৃষ্টির আভাস
৮ বিভাগেই বৃষ্টির আভাস
২৮ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৩:২৫:২৪





ডিসেম্বরে আসছে জেন্ডায়ারের ‘ডুন থ্রি’
ডিসেম্বরে আসছে জেন্ডায়ারের ‘ডুন থ্রি’
২৮ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ০২:১০:৪৩