• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১৫ই আশ্বিন ১৪৩৩ দুপুর ০২:৫০:৪৪ (30-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:

৫০৭ কোটি টাকার ভুতুরে বিদ্যুৎবিল: গ্রাহককে ফোন করে বিদ্যুৎমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ০১:৫৯:৩০

৫০৭ কোটি টাকার ভুতুরে বিদ্যুৎবিল: গ্রাহককে ফোন করে বিদ্যুৎমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক: মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ (ডিজিএম) চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এ ছাড়াও মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ড যশোর অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে বিলটি সংশোধন করে গ্রাহককে নতুন বিল দেওয়া হয়েছে। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার এই ভৌতিক বিলের ভুল সংশোধন করে মাত্র এক হাজার ৯৬৩ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের ওই বিলটি ইস্যু করা হয়। বিলের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।

কিন্তু ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে স্বাভাবিক বিলের পাশাপাশি ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ ওই বিল বেড়ে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।

অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ যার পরিমাণ দাঁড়াত ২ হাজার ৫৬ টাকা।

অস্বাভাবিক এই বিল দেখে হতবাক হয়ে যান গ্রাহক ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে বিলের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের। এরপর দ্রুত বিলটি সংশোধন করা হয়।

গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, ‘এটি শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। এ ধরনের ভুলের কঠোর প্রতিকার হওয়া জরুরি।’

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের কারণে ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এই অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে। পরে বিলটি সংশোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার গ্রাহক সংশোধিত বিল পরিশোধ করেছেন।’

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিল তৈরির ক্ষেত্রে এমন বড় ভুলের কারণে সংশ্লিষ্ট ডিজিএম মো. রেজাউল করিম, বিলিং সুপারভাইজার ও বিলিং সহকারী সোমা রানীসহ মোট চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, গ্রাহকের অতিরিক্ত বিল তৈরি করার অভিযোগে তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ড যশোর অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র: স্টার নিউজ

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ









বেড়েছে স্বর্ণের দাম
বেড়েছে স্বর্ণের দাম
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১১:৫৯:২১