জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং মন্দির নির্মাণের জন্য সনাতনী শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত একটি স্থানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাসে জায়গা সংকটের অজুহাত দেখিয়ে এতদিন কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের বিষয়টি এড়িয়ে এসেছে প্রশাসন। তবে জায়গা সংকট থাকা সত্ত্বেও সনাতনী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একাধিক স্থান চিহ্নিত করে প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রস্তাবিত স্থানগুলোর মধ্যে সর্বশেষ নির্ধারিত জায়গায় সম্প্রতি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


এ বিষয়ে সনাতনী শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি শুধু একটি স্থাপনা নির্মাণের বিষয় নয়; বরং ধর্মীয় অধিকার ও সংবিধান স্বীকৃত বিশ্বাস চর্চার অধিকারকে উপেক্ষা করার শামিল। এমন কাজ জবি প্রশাসনের ধর্ম অবমাননার শামিল বলেও উল্লেখ করছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে জকসুর সাহিত্য সম্পাদক তাকরিম আহমেদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাই আমি সবসময় তাদের পাশে থাকব। বর্তমানে আমি মন্দির আন্দোলনে আছি এবং সন্ধ্যায় শবে বরাতের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকব। যে জায়গায় মন্দির নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনোভাবেই টয়লেট নির্মাণ গ্রহণযোগ্য নয়। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি জানি সমঅধিকার কী-সব ধর্মের শিক্ষার্থীর জন্য উপাসনালয় থাকা একটি মৌলিক অধিকার।”
জকসুর পরিবহন সম্পাদক মাহিদ বলেন, “ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে সকল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, তাই সবার সমান অধিকার রয়েছে। আমার মনে হয়, অনেক আগেই কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণ হওয়া উচিত ছিল।”
জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য জাহিদ হাসান বলেন, “শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই মন্দির নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। তখন প্রশাসন জায়গা নেই বলে জানিয়েছিল। অথচ এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি সেই প্রস্তাবিত জায়গাতেই টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে-যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের দাবিতে প্রশাসনের সুস্পষ্ট অবস্থান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন সনাতনী শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় পুনরায় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তারা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available