• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ৬ই কার্তিক ১৪৩৩ দুপুর ১২:১৯:৪৬ (21-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

সাত বছরে সড়কে ঝরেছে প্রায় ৮ হাজার শিশুর প্রাণ

২১ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১১:৩৬:৪৮

সাত বছরে সড়কে ঝরেছে প্রায় ৮ হাজার শিশুর প্রাণ
সড়ক দুর্ঘটনার ফাইল ছবি

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৯৫৮ জন মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ছিল। এ ছাড়া পথচারী হিসেবে ২ হাজার ৮১২ এবং বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ২ হাজার ১৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

২১ অক্টোবর বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশই পথচারী। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৭১ শিশু নিহত হয়েছে তিন চাকার যানবাহনের ধাক্কায়। বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানবাহনের চাপায় বা ধাক্কায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১২৬ শিশুর। এ ছাড়া প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের ধাক্কায় ৩১৭ এবং মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৯৮ শিশু নিহত হয়েছে।

আরও পড়ুন

নাটোরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪

সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহত শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে গ্রামীণ সড়কে। যা মোট মৃত্যুর ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় বিবেচনায় বিকেলে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৬৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সকালে ২ হাজার ১৬৮, দুপুরে ১ হাজার ৮১৩, রাতে ৫৯৮, সন্ধ্যায় ৫৪৬ এবং ভোরে ২০৪ শিশু নিহত হয়েছে।

বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিহত শিশুদের মধ্যে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩ হাজার ৫৪৭ জন, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ ছাড়া ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন

চালকের চোখে ঘুম, গরুবাহী ট্রলি খাদে পড়ে নিহত ১

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে ২ হাজার ৫১৩ শিশু নিহত হয়েছে। আর বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলার সময় প্রাণ গেছে ৯৬২ শিশুর।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া, নিরাপদে সড়ক ব্যবহারে সচেতনতার অভাব, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের যানবাহন চালানো এবং দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের চিকিৎসাসংকট মৃত্যুর হার বাড়ার অন্যতম কারণ।

সংস্থাটি বলছে, গ্রামীণ সড়কে বসতবাড়ির কাছাকাছি দিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক নিয়ম মানা হয় না। এসব সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও সীমিত। ফলে শিশুরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকছে।

আরও পড়ুন

কুড়িগ্রামে ট্রাকচাপায় একই পরিবারের তিনজনসহ ৫ জন নিহত

শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা নিরাপদ করা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো এবং অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবা বাড়ানো, চিকিৎসার জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়কের অব্যবস্থাপনার কারণে শিশুরা নিহত ও পঙ্গু হচ্ছে, যা জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

আরও পড়ুন

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৫

এটিভি/এসআইআর

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ







আজ ৩ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
আজ ৩ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
২১ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০:৫৯:২৮