• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ১৬ই কার্তিক ১৪৩৩ বিকাল ০৫:৪৪:০৭ (31-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

টানা ছয় দিনের বর্ষণে বিপর্যস্ত রাঙামাটি, পানিবন্দী ৩০ হাজার মানুষ

৯ জুলাই ২০২৬ রাত ০৮:০৯:৫০

টানা ছয় দিনের বর্ষণে বিপর্যস্ত রাঙামাটি, পানিবন্দী ৩০ হাজার মানুষ

রাঙামাটি প্রতিনিধি: টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক পাহাড়ধস, কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণে রাঙামাটির অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১৩টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি এবং নানিয়ারচরে ২টি পাহাড়ধসের তথ্য পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা। পাহাড়ি ঢলে উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। দুর্গতদের জন্য ৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ৩ হাজার ২৪৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হলেও প্লাবিত এলাকায় নিজ বাড়িতে অবস্থানরত অনেকেই এখনও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুন

রংপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ মাছের খাদ্য জব্দ, দুই ফিড ব্যবসায়ীকে জরিমানা

অন্যদিকে পাহাড়ধসে বাঘাইছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের অন্তত আটটি স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সাজেক-খাগড়াছড়ি সড়কের কোবাখালী এলাকায় পানি ওঠায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে সাজেকে আটকে পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রায় ১৫০ জন নিরাপদে ফিরে গেছেন। অবশিষ্ট পর্যটকদের জন্য রিসোর্ট মালিকরা কক্ষভাড়া মওকুফ করে শুধুমাত্র খাবার ও পানির খরচ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

চলমান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ২০০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশনসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটিতে ১৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় এবং ২৯টি অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত রয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন। তাই পাহাড়ধসের আশঙ্কা বিবেচনায় প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

বড়াইগ্রামে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাঙামাটিতে ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় হয়েছিল ২৮৭ মিলিমিটার। বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

প্রতি বর্ষা মৌসুমেই রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে ২০১৭ সালের ১৩ জুন ভয়াবহ পাহাড়ধসে ৫ সেনাসদস্যসহ প্রায় ১২০ জনের মৃত্যু এবং পরের বছর নানিয়ারচরে আরও ১১ জনের প্রাণহানির ঘটনা এখনো পাহাড়বাসীর মনে আতঙ্ক জাগিয়ে রাখে। ফলে বর্ষা এলেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যায়।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ




চাকরি হারালেন ৮ পুলিশ কর্মকর্তা
চাকরি হারালেন ৮ পুলিশ কর্মকর্তা
৩১ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৫:০৯:১২



হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
৩১ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৪:৪২:২৩


পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা বোর্ড
পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা বোর্ড
৩১ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৪:৩১:৩৮

ঊর্ধ্বতন ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি
ঊর্ধ্বতন ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি
৩১ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৪:২৩:৪৭