• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ২৪শে চৈত্র ১৪৩২ বিকাল ০৪:৩৭:৩০ (07-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি জোরদার

৭ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ০২:৫০:১৯

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি জোরদার

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুন নাহার ইতি।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান নিম্নমুখী হয়েছে। বিশেষ করে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা যায়, ৩ দিনের ছুটি নিয়ে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনে গেলেও তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেন ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, যা নিয়ে প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

Ad
Ad

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়া ওষুধ সরবরাহের তালিকা থাকলেও বাস্তবে সীমিত কিছু ওষুধ যেমন প্যারাসিটামল, এন্টাসিড, হিস্টাসিন ও আয়রন ছাড়া তেমন কিছু পাওয়া যায় না। এতে বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশু রোগীরা ঝুঁকিতে পড়ছেন।

Ad

এছাড়া ইনজুরি সার্টিফিকেট দিতে বিলম্ব ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ, রোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ এবং হাসপাতালের স্টাফদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে শয্যা সংখ্যা বাড়লেও সেবার মানে তেমন উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলেও জানা গেছে

ডা. নাজমুন নাহার ইতি ২০১৪ সালের ২৬ আগস্ট মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সালে পদোন্নতি পেয়ে আরএমও হন। ২০২১ সালে তার বদলির আদেশ হলেও তা পরবর্তীতে প্রত্যাহার হয়ে তিনি একই কর্মস্থলে বহাল থাকেন।

সরকারি কোয়ার্টারে বসবাসের নিয়ম থাকলেও তিনি সেখানে অবস্থান না করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে যাতায়াত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সরকারি কোয়ার্টার অন্যদের ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ডা. নাজমুন নাহার ইতি বলেন,“আমি মাঝে মধ্যে হাসপাতালে থাকি। কোনো সমস্যা হলে মোবাইলে যোগাযোগ রাখি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান,“তিনি প্রথমে তিন দিনের ছুটির কথা বললেও পরে সাত দিনের নৈর্ব্যক্তিক ছুটি নেন। পরবর্তীতে পারিবারিক সমস্যার কথা জানান। তবে নিয়ম অনুযায়ী সাত দিনের বেশি ছুটি দেওয়া সম্ভব না হলেও তিনি প্রায় এক মাসের বেশি সময় অনুপস্থিত ছিলেন।”

এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা। তারা মনে করছেন, যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হলে হাসপাতালের সেবার মান উন্নত হবে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ

জয়পুরহাটে বাড়ছে হামের প্রকোপ
জয়পুরহাটে বাড়ছে হামের প্রকোপ
৭ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৫:১২


‘আল্টিমেটাম রাজপথে দেওয়া যায়, সংসদে নয়’
‘আল্টিমেটাম রাজপথে দেওয়া যায়, সংসদে নয়’
৭ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:১১:২১









Follow Us