স্টাফ রিপোর্টার, পিরোজপুর: পিরোজপুরের নেছারাবাদে ডিজেল সংকটের কারণে ইরি-বোরো ধান চাষে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ডিজেল না পাওয়ায় কৃষকরা ধানক্ষেতে পানি সেচ দিতে পারছেন না। পানির অভাবে ফেটে যাচ্ছে জমি, নষ্ট হচ্ছে সবুজ ধানের চারা।


স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় ডিজেল মজুদদাররা বাজারে সরবরাহ সীমিত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার হাজার হাজার কৃষক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নেই কোনো নজরদারি। দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি।
চামী গ্রামের কৃষক বিনয় কৃষ্ণ বলেন, ডিজেলের অভাবে আমাদের ভাগ্যে কী আছে জানি না, এর সমাধান না হলে বোরো ধান শেষ হয়ে যাবে। ডিজেল সংকটে ইরি-বোরো ধানের সেচ কার্যক্রম ভেঙে পডায় পুরো মৌসুমী বোরো ধান উৎপাদন এখন চরম ঝুঁকির মুখে। উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে না পারায় হাজার হাজার কৃষক দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে ডিজেলচালিত পাম্পই একমাত্র ভরসা হলেও জ্বালানির সংকট কৃষকদের অসহায় করে তুলেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “ইরি-বোরো ধান সম্পূর্ণ সেচনির্ভর ফসল। বিশেষ করে এই পানি সেচ সময়ে জমিতে নিয়মিত পানি না থাকলে শীষ গঠনে বাধাগ্রস্ত হয় এবং ফলনে বিপর্যয় নেমে আসে। ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত না থাকলে কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
স্থানীয় কৃষকদের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে হতাশা ও ক্ষোভ। তারা বলছেন, “ডিজেল না থাকায় পাম্প চালাতে পারছি না, জমি ফেটে যাচ্ছে। এখন পানি না দিতে পারলে পুরো ফসলই শেষ হয়ে যাবে। আমাদের সব পরিশ্রম মাটি হয়ে যাবে।”
দৈহারি ইউনিয়নের কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, “এবার ডিজেলের কারণে বোরো ও ইরি ধানের ফলনের যে অবস্থা তাতে কী খাইয়া যে মোরা বাচুম হেয়া মোরা জানি না রে-বাজান!”
এদিকে স্থানীয় সুশীল সমাজ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু কৃষকরাই নয়, জাতীয় পর্যায়েও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। কারণ দেশের খাদ্য চাহিদার বড় অংশই ইরি-বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল।
কৃষকরা দ্রুত ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় এ অঞ্চলে ইরি-বোরো উৎপাদনে বড় ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত জানিয়েছেন, এলাকায় ডিজেল মজুত রাখার কোনো সুযোগ নেই। কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে ইতোমধ্যে প্রশাসন মাঠে নেমে অভিযান পরিচালনা করছে। অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। কৃষকদের সেচ কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি চলছে। কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলেও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available