• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ২৫শে ফাল্গুন ১৪৩২ রাত ০১:৪৮:০৪ (10-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:

মধুমতি গিলছে বসতভিটা, অনিশ্চয়তায় ফরিদপুরের নদী তীরের মানুষ

৮ মার্চ ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৩৯:৩৫

মধুমতি গিলছে বসতভিটা, অনিশ্চয়তায় ফরিদপুরের নদী তীরের মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার, ফরিদপুর: অসময়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধুমতি নদীতে। হঠাৎ করে নদীর তীর ধসে পড়ায় বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার তাদের মালামাল সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৪ নম্বর টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে ৬ মার্চ শুক্রবার দিবাগত রাতে মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনের কবলে পড়ে গ্রামের বাসিন্দা মো. সোহাগ শেখ ও মো. মনা মিয়া শেখের বসতভিটা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। রাতারাতি বসতভিটা হারিয়ে দুই পরিবার এখন কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

Ad
Ad

ভুক্তভোগী সোহাগ শেখ জানান, বহু কষ্টে গড়ে তোলা তার একমাত্র বসতভিটা মুহূর্তের মধ্যেই নদীর গর্ভে চলে গেছে। এখন তিনি পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, এই ভিটাটাই ছিল আমার সব। নদী সেটাও নিয়ে গেল। এখন থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। সরকার যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো আবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবো।

Ad

আরেক ভুক্তভোগী মনা মিয়া শেখের স্ত্রী নিহার বেগম বলেন, তাদের কোনো ছেলে সন্তান নেই, তিন মেয়ে রয়েছে—যারা সবাই বিয়ের পর নিজ নিজ শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। তিনি একাই এই বাড়িতে বসবাস করতেন। হঠাৎ শুক্রবার মাগরিবের সময় নদীর ভাঙন শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যেই ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়। তিনি জানান, এর আগেও কয়েকবার তাদের বসতভিটা ভাঙনের মুখে পড়েছিল, তবে এবার পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা সম্পূর্ণভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, মধুমতি নদীর ভাঙন নতুন নয়। বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। তবে চলতি সময়ে আকস্মিক ভাঙনে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আরও কয়েকটি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

এদিকে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, নদীর তীরে দ্রুত জিও ব্যাগ বা প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণ করা হলে ভাঙন কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ



দেশের ৮ বিভাগেই বৃষ্টির আভাস
দেশের ৮ বিভাগেই বৃষ্টির আভাস
৯ মার্চ ২০২৬ রাত ০৮:১১:৪৩









Follow Us